ফিলিপাইনের শুনানিতে অভিযুক্ত কিম অং

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৫২, মার্চ ২৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৮, মার্চ ২৯, ২০১৬



যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির শুনানিতে হাজির হয়েছেন চীনা বংশোদ্ভূত ফিলিপিনো ব্যবসায়ী কাম সিন অং ওরফে কিম অং। তাকে অর্থ অর্থ চুরির অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। রিজার্ভ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করেছে ফিলিপিন্সের মুদ্রা পাচার কাউন্সিল-এএমএলসি।

মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকিংয়ের তদন্তে গঠিত সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির এই শুনানি শুরু হয়। তবে এ কমিটির সামনে আসার আগে স্থানীয় গণমাধ্যমের সামনে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন কিম অং।

রিবন কমিটির শুনানিতে এর আগে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগিতো হাজির হয়েছিলেন। তার দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরেই এ জালিয়াতিতে কিম অংয়ের নাম উঠে আসে।

মঙ্গলবার ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে অংশ নেন কিম অং।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ওই ব্যাংকেরই চারটি অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তবে সিনেট কমিটির শুনানিতে ওই চার অ্যাকাউন্টের মালিককে তলবের জন্য নাম-ঠিকানা খুঁজলে দেখা যায় সেগুলো ভুয়া।

ব্লু রিবন কমিটির সদস্য সিনেটর সের্গিও ওসমেনাকে উদ্ধৃত করে ইনকোয়ারার এর আগে জানিয়েছিল, কিম অংই ওই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো খুলতে বলেছিলেন দেগিতোকে। ফিলরেম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডলার ভাঙানোর নির্দেশও তিনিই দিয়েছিলেন।

১৫ বছর আগেও কিম অং একবার সিনেট ব্লু রিবন কমিটির শুনানির মুখোমুখি হন। অবৈধ মাদক ব্যবসা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সে সময় ৩৯ বছর বয়সী অংকে ডাকা হয়েছিল। এক সিনেটরের সঙ্গে মাদক চোরাচালানিদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে ।

১০ বছর বয়সে চীন থেকে ফিলিপাইনে পাড়ি দেন অং। কলেজের ছাত্র থাকাকালে লেখাপড়া বাদ দিয়ে স্থানীয় একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির কাজে যোগ দেন। এক পর্যায়ে তিনি ফিলিপাইনের একজন বড় ব্যবসায়ীতে পরিণত হন। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এর আগে কাম সিন অং ওরফে কিম অং ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারারের কাছে স্বীকার করেছেন, ঘটনার পাঁচ সন্দেহভাজনের একজন তার ১০ বছরের বন্ধু। তবে তার বিরুদ্ধে দিগুইতোর করা অন্যসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

কিম অং জানান, তিনি এতোদিন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে ছিলেন। সম্প্রতি ফিলিপাইন এয়ারলাইন্সের পিআর৫১০ বিমানে তিনি ফিলিপাইনে পৌঁছেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি সবকিছুই বলবো। কিছুই গোপন করবো না।’ তবে তার বিরুদ্ধে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার ব্রাঞ্চের ম্যানেজার মাইয়া সান্তোস দিগুইতোর অন্যসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

দিগুইতোর অভিযোগ ছিল, পাঁচ সন্দেহভাজন মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার লাগরোসাস, এনরিকো তেওদোরো ভাসকুয়েজ, আলফ্রেড সান্তোস ভারগারা এবং উইলিয়াম সো গোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ে তিনি ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

কিম অং জানান, সোলেয়ার ক্যাসিনোর অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া ১ দশমিক ৩৭৪ বিলিয়ন পেসো (ফিলিপাইনের মুদ্রা), যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলারের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে, তা অং-কে তার এক চীনা জুয়াড়ি গ্রাহক দিয়েছিলেন। ১ বিলিয়ন পেসো তিনি মাইডাস ক্যাসিনোতে জিতেছিলেন বলে জানান তিনি।

ফিলিপাইনে প্রবেশ করতে কিম অং একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, তার কাছে ভানুয়াতু প্রজাতন্ত্র, চীন এবং তাইওয়ানের পাসপোর্ট রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সব পাসপোর্টে আমার নাম একই, কিম অং। আমি যদি অপরাধী হতাম, তাহলে প্রতিটা পাসপোর্টে ভিন্ন নাম থাকতো।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে আর কোনও লেনদেন হয়নি। ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপিনো পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। সূত্র: ইনকোয়ারার।

/এমপি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ