ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩৪আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩৪

ইরান যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়, তবে এ বছর বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার কোম্পানি নরওয়ের ইয়ারাআ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী সভেইন তোরে হোলসেথার। বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে খাদ্যের দাম বৃদ্ধির আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।” খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সভেইন তোরে হোলসেথার বলেন, “সারের গুরুত্ব বিবেচনায়, যুদ্ধ যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তবে এটি ফসলের উৎপাদনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এটি আঞ্চলিক সংঘাত হলেও এর বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে এবং এটি সরাসরি খাদ্য ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে।””

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সারের কাঁচামালের দাম হু হু করে বেড়েছে। কারণ, সারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউরিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্য হওয়া অ্যামোনিয়ার প্রায় এক-চতুর্থাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। ইউরিয়ার দাম প্রতি টনে প্রায় ২১০ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০০ মার্কিন ডলারে। ইরানের ওপর আক্রমণের আগের সপ্তাহে প্রতি টন ইউরিয়ার দাম ছিলো ৪৮৭ ডলার।

হোলসেথার বলেন, “যদি হরমুজ প্রণালি এক বছর বন্ধ থাকে তা মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করবে। আমরা উদ্ভিদের পুষ্টি নিয়ে কথা বলছি, এবং যদি তারা পুষ্টি না পায় তবে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। কিছু ফসলে সার দেওয়া না গেলে উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।”

১৯০৫ সালে নরওয়েতে ইয়ারাআ কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। মূলত এ প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় খরা মোকাবেলার জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ নাইট্রোজেনভিত্তিক সার উৎপাদক। নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকায় এ কোম্পানির প্ল্যান্ট রয়েছে।

সার শিল্প ‘দুমুখী আঘাত’ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে জানিয়ে হোলসেথার বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কাঁচামালের সরবরাহ বন্ধ হওয়া এবং বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া।” তিনি বলেন, “যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব হিসেবে কাতার ও ইরানে সার উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এমনকি এশিয়ার কিছু দেশ গ্যাস রেশনিং করতে নির্দেশ দিয়েছে। যখন গ্যাসের দাম বেড়ে যায় তখন তা সরাসরি সারের উৎপাদনের খরচে প্রতিফলিত হয়।”

ইউরোপের দেশগুলো সারের সংকট সামাল দিতে পারবে বলে জানিয়ে হোলসেথার বলেন, “ইউরোপ সবসময় দরিদ্র দেশগুলোর চেয়ে বেশি দাম দিতে পারবে, যা আফ্রিকা এবং তার বাইরের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।”

/এবিএম/
সম্পর্কিত
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বশেষ খবর
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী