১২ দিনে দুই দফা জঙ্গি হামলার পর শুরু হওয়া যুক্তরাজ্যের আগাম নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশিরাও। সর্বশেষ জরিপে কনজারভেটিভ প্রার্থীর থেরেসা মে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশিদের পছন্দ লেবার পার্টির জেরেমি করবিনকে। বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা জানান ব্রিটেন প্রবাসী সাংবাদিক বুলবুল হাসান।
ভোটার উপস্থিতির প্রসঙ্গে বুলবুল বলেন, ব্রিটেনে গত ১১ বছরের মধ্যে ভোটারদের সবচেয়ে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখছেন তিনি। সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিলো। তবে দুপুরের দিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপস্থিতি কিছুটা কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওই সাংবাদিক জানান, ব্রেক্সিটের পক্ষে ব্রিটেনবাসী গণভোট দেওয়ার পর এই আগাম নির্বাচনকে পুরো ইউরোপের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ৬৯ লাখ।
নির্বাচনে ব্রেক্সিটকেই সবচেয়ে বড় ইস্যু ভাবা হলেও ভোটাররা নিরাপত্তা নিয়েই বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিন মাসের ব্যবধানে ব্রিটেনে তিনটি সন্ত্রাসী হামলার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সরকার। এক্ষেত্রে ভোটাররা কনজারভেটিভ সরকারকেই বেশি দুষছে বলে জানিয়েছেন বুলবুল হাসান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এই সরকারের সময় হামলা হয়েছে, তাই সবাই ধরেই নিচ্ছেন থেরেসা মে সন্ত্রাস মোকাবেলায় ব্যর্থ।’
তবে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে সন্ত্রাসের প্রতি জিরো টলারেন্স অবস্থানের কথা জানিয়েছেন থেরেসা মে। প্রয়োজনে মানবাধিকার আইন পরিবর্তনেরও ঘোষণা দেন তিনি। বিষয়টি অনেকে স্বাগত জানালেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে প্রবাসী বাঙালিসহ অন্য দেশের অভিবাসীদের মধ্যে।
এক্ষেত্রে সন্ত্রাস দমনে জেরেমি করবিনের প্রক্রিয়ার পক্ষে মত রয়েছে অনেকের। করবিন জানিয়েছেন বোমার বদলে বোমা নয় বরং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাস দমনে বিশ্বাসী তিনি। বেশিরভাগ অভিবাসী তার এই নীতি স্বাগত জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
তিনি বলেন, লেবার পার্টিকে চিরাচরিতভাবে অভিবাসনবান্ধব দল মনে করা হয়। তাই বাঙালিরা লেবার পার্টিকেই বেশি সমর্থন দেয়। আর গত নির্বাচনে তাদের পার্টি থেকেই তিনজন বাংলাদেশি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাই তাদের প্রতি আস্থা রাখতে চায় ব্রিটেনের বাঙালিরা।’
সার্ভশেনের একটি জরিপে দেখা যায়, এখন কনজারভেটিভদের রেটিং পয়েন্ট ৪১.৫ শতাংশ এবং লেবারের পয়েন্ট ৪০.৪ শতাংশ। লিবারেল ডেমোক্রেটদের পয়েন্ট ৬ এবং ইউকেআইপি-এর পয়েন্ট ৩ শতাংশ। নির্বাচনের ফল যদি সত্যি এমন হয়, তাহলে থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে। কোনও দলই পাবে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে ঝুলন্ত সংসদ গঠনের পথে আগাতে হতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোকে। তখন কোয়ালিশন সরকার আসতে পারে। আর এক্ষেত্রেই লেবার পার্টির উত্থান-সম্ভাবনা সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ছোট দলগুলো আদর্শিকভাবে লেবার-এর কাছাকাছি।
/এমএইচ/বিএ/








