জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত মামলার বিচারের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। ওই নীতিমালায় জঙ্গি হামলার প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্ত ব্যক্তিকেও দীর্ঘতর মেয়াদের কারাবাস দেওয়ার প্রস্তাব করেছে দেশটি। বুধবার প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের সেন্টেনসিং কাউন্সিলের ‘টেররিজম অফেন্স: ডেফিনিটিভ গাইডলাইনসে’ বলা হয়েছে, জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির ভূমিকা যত গৌণই হোক না কেন, অভিযুক্ত আগের তুলনায় কঠোরতর সাজা পাবে। আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে ওই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার কথা। নতুন নীতিমালায় জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ যাবজ্জীবনই থাকছে, যেখানে জঙ্গিবাদে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নূন্যতম সাজার মেয়াদ ৪০ বছর। নতুন ওই নীতিমালায় স্বল্পমাত্রার অপরাধে জড়িত থাকার শাস্তির মেয়াদ সর্বনিম্ন ৩ থেকে ৬ বছর হয়ে সর্বোচ্চ ২১ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
কাউন্সিল জানিয়েছে, জঙ্গি হামলার ধরণে পরিবর্তন আসায় উদ্ভূত নতুন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো যথাযথভাবে পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে, সন্ত্রাসীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং জঙ্গিবাদকে কার্যকরভাবে দমন করতে আদালতের জন্য সহায়ক হবে নতুন নীতিমালাটি। সেন্টেনসিং কাউন্সিলের সভাপতি লর্ড জাস্টিস ট্রেসি বলেছেন, ‘আদালতের সামনে আসা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো জঙ্গিবাদ সংক্রান্ত মামলা। অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ হয়তো সাধারণ মানুষের প্রাণনাশী হামলার পরিকল্পনাকারী, কেউ হয়তো বোমা বানানোর সঙ্গে জড়িত, আবার কেউ কেউ জঙ্গি সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহের মতো কাজ করেছে। সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করার পাশাপাশি জঙ্গি হামলা আমাদের সামাজ ব্যবস্থার জন্যও হুমকি। এই হুমকিগুলো আমাদের সামনে রয়েছে এবং আমরা চাই অভিযুক্তদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতে এবং জঙ্গি কার্যক্রমের অস্তিত্ব বিনাশে আদালতের হাতে যেন যথাযথ নীতিমালা থাকে।’
যুক্তরাজ্যের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সেন্টেনসিং কাউন্সিল জানিয়েছে, গত বছর যুক্তরাজ্যে সংগঠিত জঙ্গি হামলাগুলো ঘটার আগে থেকেই তারা জঙ্গিবাদ বিরোধী এই কঠোর নীতিমালা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন। জঙ্গি হামলার পরিবর্তীত প্রকৃতির কারণে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকায় তারা দ্রুত কাজ শেষ করেছেন। পরিবর্তনগুলোর একটি যুক্তরাজ্যের ২০০৬ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের ৫ নম্বর ধারার সঙ্গে জড়িত। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহায়তাদানকারীদের বিচারের ক্ষেত্রে ওই ধারাটি প্রাসঙ্গিক। ২০১৬ সালে আপিল আদালত ধারাটিতে বর্ণিত সাজার মেয়াদ নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল। এবার সেটিকে হালনাগাদ করা হয়েছে।
কাউন্সিল এর ব্যাখ্যায় বলেছে, ‘২০১৭ সালে হওয়া হামলাগুলোতে গাড়ি থেকে শুরু করে চাকু পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে। যা দেখে বোঝা যায়, কোর্ট অফ আপিল যে ধরণের স্পর্শকাতর মামলাগুলো নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল, ওই ধরণের মামলাগুলোর প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন এই নীতিমালায় ইন্টারনেটে থাকা জঙ্গিবাদ উস্কে দেওয়ার মতো উপকরণের বিষয়টিও আমলে আনা হয়েছে।’
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কারাদণ্ডের যে মেয়াদ কার্যকর রয়েছে তার প্রভাব নিয়ে কাউন্সিল মন্তব্য করেছে, সেখানে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। ইন্টারনেটে সহজপ্রাপ্য জঙ্গিবাদ সহায়ক উপকরণের দ্বারা উজ্জীবিত হয়েই একটি গাড়ি নিয়ে হামলায় নেমে যাওয়া যায়। আগে লঘুভাবে দেখা স্বল্প মাত্রার অপরাধগুলোর প্রকৃত প্রভাব আসলে অনেক গুরুতর।
নতুন নীতিমালায় অনেক ধরণের জঙ্গি হামলার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জঙ্গি হামলার প্রস্তুতি নেওয়া, বিস্ফোরণ ঘটানো বা ঘটানোর পরিকল্পনা করা, জঙ্গিবাদ উস্কে দেওয়ার উপকরণ সংগ্রহ ও বিলি করা, জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা, জঙ্গি হামলাকে মহিমান্বিত করা, জঙ্গি হামলার বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনে যোগ দেওয়া বা সমর্থন করা।
জঙ্গি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটানোর বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলা হয়নি নতুন নীতিমালায়। কারণ সেসব হত্যা ও হামলার জন্য প্রযোজ্য ধারায় বিচারযোগ্য। অবশ্য জঙ্গি হামলায় হতাহতের অভিযোগের বিচারে নতুন নীতিমালা সহায়ক হবে।







