হাসপাতালে দু’দিন ভর্তি থেকেও মেলেনি চিকিৎসা: অভিযোগ পরিবারের

তাসকিনা ইয়াসমিন
০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪১আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:২২

 

হাসনা আহমেদ

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুইদিন পারও হলে দেখা মেলেনি চিকিৎসকের। শেষপর্যন্ত চিকিৎসার অভাবে শনিবার মৃত্যুবরণ করে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা হাসনা আহমেদ।  এমনটাই অভিযোগ তার পরিবারের।

শনিবার রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মারা যান হাসনা। তার ছেলে মাকসুমুল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার মা দুই দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও এসময় তাকে চিকিৎসার আওতায় নেয়া হয়নি এবং কোন চিকিৎসক তাকে দেখতে আসেননি।  অন্যদিকে  বারডেম কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে রোগী আসলেই সবাইকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

মাকসুমুল বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আগে থেকেই ডায়াবেটিসের রোগী হওয়ায় ওই সময় তাকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গভীর রাতে একজন রোগী নিয়ে যাওয়ার পরেও হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে কোন সহযোগিতা করা হয়নি। পরে তাদের অনেক অনুরোধ করে মাকে সেখানে ভর্তি করতে হয়। ১১০২ নং এ ছিলেন তিনি। তবে ভর্তির পর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত একজন চিকিৎসকও কোন খোঁজ নেয়নি।

তিনি রআরও অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাত হওয়ায় এবং শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন থাকায় কোন চিকিৎসক একবারের জন্য মায়ের চিকিৎসা বা খোঁজ নিতে আসেননি। এমনকি ডিউটি ডাক্তার পর্যন্ত আসেননি। এ ব্যপারে নার্সদের সহযোগিতা চাইলেও কোন আশানুরুপ সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু রোগী মৃত্যুর পর অসংখ্য ডাক্তার সেখানে চলে আসেন। এসময় সিকিউরিটি গার্ডরা চিকিৎসকদের নিরাপদ দূরত্বে রাখে। এসময় চিকিৎসকরা রোগীর কি হয়েছে, কিভাবে মারা গেল এ বিষয়ে জানতে চান।

মাকসুমুল মাহমুদ বলেন, চিকিৎসকদের এমন আচরণে এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেকটা জোর করেই আমাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেলথ রাইটস মুভমেন্ট এর প্রেসিডেন্ট ও বারডেম হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ডা. রশীদ-ই-মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা কার্ডিয়াক প্রবলেমের রোগী ছিল। সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। চিকিৎসক যদি চিকিৎসা না দেয় তাহলে ডেথ সার্টিফিকেট আসলো কোথা থেকে? বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা এসেছে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য। রোগী মারা যাবে না এটা তো আমরা নিশ্চিত করতে পারব না। এই ঘটনার পর আজকে থেকে আমি নির্দেশনা দিয়ে এসেছি প্রত্যেক রোগীর একজন লোকের সঙ্গে চিকিৎসক কথা বলবেন। হাজারটা লোকের সঙ্গে আমরা কথা বলতে পারব না। আমাদের সাথে যার কথা বলার তার নম্বর আগে দিতে হবে এবং ঐ লোকের সঙ্গেই আমরা কথা বলব। আমরা রোগীর লোককে কাউন্সেলিং করব। কিন্তু সব লোককে তো আমরা কাউন্সেলিং করতে পারব না। এখন সমস্যা এটাই হচ্ছে যে, সবাই ভাবে সব রোগী বেঁচে যাবে। কিন্তু সব রোগী বাঁচানো তো চিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব না। কারণ তারা চিকিৎসার বোঝেই বা কতটুকু।’

তিনি আরও বলেন, এই রোগীর আগেই রিং পরানো হয়েছে। ইব্রাহীম কার্ডিয়াকে তার আগে চিকিৎসা হয়েছে। সমস্যা হওয়ার পর আমরা তার চিকিৎসা করেছি। আল্টিমেটলি রোগী মারা গেছে। যখনই খবর পেয়েছে সবাই গেছে। চিকিৎসকরা গেছে। কিভাবে মানুষকে সন্তুষ্ট  করা যায় এটার একটা প্রক্রিয়া আমাদের বের করতে হবে।

রশীদ-ই-মাহমুদ বলেন, চিকিৎসক বলতে যদি কনসালটেন্ট বোঝেন তা হলে তো হবে না। সেটা রোস্টার আছে এবং নিয়মিত ডিউটি ডাক্তর থাকবেন। তিনি কনসালটেন্ট এর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এটাই নিয়ম।

 

টিওয়াই/এমএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন তো ইয়ামাল? 
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
রাজশাহীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের