নভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮’-এর প্রয়োজন হতে পারে জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এ আইনের যেসব ধারা প্রয়োগ করা হতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আইনটির ২৬ ধারা অনুযায়ী যদি কেউ সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেয় তাহলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য ওই ব্যক্তি দুই মাসের কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এছাড়াও কোনও এলাকাকে সংক্রমিত এলাকা ঘোষণা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ও আছে এই আইনে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯ কে বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশের চলমান প্রস্তুতি এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবু পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও জাতীয় পরিস্থিতির আলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮-এর কিছু ধারা প্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জারি করা ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা কিছু প্রবাসী বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা কোয়ারাইন্টাইনের শর্ত সঠিকভাবে মানছেন না, অনেকেই মিথ্যা ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। অধিদফতর তাদের সবাইকে আইন অনুযায়ী এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন-২০১৮ এর শর্ত পালন করতে অনুরোধ করছে। এর ব্যত্যয় হলে শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ করা হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ আইনের ধারা-১ এর (চ), (জ), (ট), (ত) উপধারা এবং ধারা-১০, ১১, ১৪, ১৮, ২০, ২৫, ২৬ ও ২৭ করোনা ভাইরাস ( কোভিড-১৯) মোকাবিলায় প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতে পারে।
এর মধ্যে ধারা-১ এর (ত) উপধারা অনুযায়ী সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজন হলে উড়োজাহাজ, জাহাজ, জলযান, বাস, ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহন দেশে আগমন, নির্গমণ বা দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করা নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
এছাড়াও ধারা-১০ এ সংক্রামক রোগের তথ্য প্রদান, ধারা-১১তে সংক্রমিত এলাকা ঘোষণা, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ, ধারা-১৪ তে রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বিচ্ছিন্নকরণ, ধারা-১৮ তে যানবাহন জীবাণুমুক্ত করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা, ধারা-২০ এ মৃতদেহের সৎকার, ধারা-২৫ এ দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার দণ্ড, ধারা-২৬-এ মিথ্য তথ্য দেওয়ার দণ্ড এবং ধারা-২৬-এ ফৌজদারি বিধির প্রয়োগ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।








