‘আমি তো সহ্য করতে পারছি না। আমি কী করে বাঁচবো। বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিও।’ মৃত্যুর আগে বাবা আলাউদ্দিনকে কথাগুলো বলে গেছেন ছেলে ইমরান। এটাই বাবার সঙ্গে ছেলের শেষ কথা ছিল। ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা আলাউদ্দিন। হাসপাতালে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথোপকথনের বর্ণনা করছিলেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধ ইমরান (৩৭) সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন।
ইমরান গার্মেন্টসকর্মী ছিলেন। তার বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার শের আলী মাদবর বাড়ি এলাকায়। চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাবা আলাউদ্দিনের সঙ্গে থাকা এক স্বজন বলেন, ‘ইমরান গার্মেন্টসে কাজ করতো। খুব ভালো ছেলে ছিল সে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। চার ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে সে ছিল বড়। তার বাবা বড় সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায়।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। ফরজ নামাজের মোনাজাত শেষে অনেকে সুন্নাত ও অন্য নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪০ জন মুসল্লি ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের প্রায় সবাই দগ্ধ হন। এদের ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।








