অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা বাড়ছে, দাম নির্ধারণ করবে সরকার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০২ আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৩

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় আরও ১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত গাইডলাইন অনুমোদন দেওয়া হয়। এদিন রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় এবার নতুন করে ১৩৬টি ওষুধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মূল ব্যাপার হচ্ছে, এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ওষুধগুলোর ক্ষেত্রে আসলে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে ওষুধগুলো বিক্রি করতে হবে। এটা স্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে—এই বিষয়টি আমাদের একটি ফর্মুলা। এই তালিকা অনেক দিন যাবৎ—সেই ১৯৮৫ সালে একবার তৈরি হয়েছিল। ১৯৯২ সালে সেটা কিছু পরিবর্তন করা হয়েছিল। এবার একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা বলা হচ্ছে এবং যেখানে কাঁচামাল, অর্থাৎ এটার এপিআই এক্সিপিয়েন্ট এবং তার সঙ্গে মার্কাপের ক্ষেত্রে আমরা কোনও পরিবর্তন করিনি। যেটা প্রচলিত মার্কাপ ছিল সেটাই থাকছে। অতএব, মূল ব্যাপার হচ্ছে—এই অত্যাবশ্যকীয় তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে যারা আছেন, তাদের এই মূল্যে পর্যায়ক্রমে আসতে হবে। যারা ওপরে আছেন তাদেরও নেমে আসতে হবে। যারা নিচ থেকে যাবেন, তারা ইচ্ছা করলে ওপরে উঠতে পারেন, অথবা থাকবেন না।

তিনি বলেন, এই ওষুধগুলো দেশের সাধারণভাবে আপনারা সবাই জানেন—অত্যাবশ্যক ওষুধ মাত্র এটা বাই ডেফিনেশন, এটা শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের সব রোগব্যাধির চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। অতএব, এই ওষুধগুলোর ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ সরাসরি বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতার ওপরে আসছে  এবং ওষুধের প্রাপ্যতার ওপরে প্রভাব ফেলবে। অতএব, এটা বলা যায় একটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। এই অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের মানুষের ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য খাতে, ওষুধের ব্যয় কমানোর যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে—আমরা আশা করি এটা একটা দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে।

ওষুধ শিল্পে প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ ব্যাপারে খুবই সাবধান ছিল। খুবই সতর্কতার সঙ্গে এটাকে একটা পর্যায়ক্রমিকতে ফেলা হয়েছে। যেখানে চার বছর সময় দেওয়া হচ্ছে, যেন পর্যায়ক্রমে ইন্ডাস্ট্রিগুলো এটা সমন্বয় করতে পারে। কিন্তু এটা নিশ্চিত করা হচ্ছে, এই ওষুধগুলোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এর বাইরে আরও প্রায় ১১০০ ওষুধ থাকবে। সেগুলোর জন্য বলা হয়েছে, উৎপাদকরা প্রস্তাব করবেন।

তিনি বলেন, কিন্তু সেগুলোর জন্যও আসলে এই মেডিয়ান প্রাইস ওখানে খুবই একদম একটা ভালো জিনিস বলা হচ্ছে—ইন্টার্নাল রেফারেন্স এবং ইন্টার্নাল রেফারেন্স প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে আসলে এই বাকি ওষুধগুলোর ক্ষেত্রে যদি সাতের বেশি উৎপাদক হয়, তাহলে ইন্টারনাল রেফারেন্স প্রাইসিংয়ের মাধ্যমে তাদের একটা ১৫ শতাংশের রেঞ্জের মধ্যে আসতে বলা হবে। এটার জন্য আসলে প্রতিবছর ২৫ শতাংশ হিসেবে সমন্বয় করে চার বছর সময়কালে ওনাদের এই রেঞ্জে ঢুকতে হবে। যদি সাতের কম উৎপাদক ওষুধটা তৈরি করে, সে ক্ষেত্রে ইন্টারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং এবং এক্সটার্নাল রেফারেন্স—মানে দেশের বাইরে অন্যান্য জায়গায় এই ওষুধটা উৎপাদন যেখানে হয়, সেই মূল্যটাকে পিপিপি সমন্বয় করে সেটা দেখা হবে—ইন্টারনাল এবং এক্সটার্নালের মধ্যে কোনটা কম এবং সেটা অনুযায়ী তাদের আসলে মূল্য অনুমোদন দেওয়া হবে। অতএব, এটা তারা প্রস্তাব করবেন, সরকার অনুমোদন দেবে। কিন্তু অনুমোদন দেওয়ার নীতিমালাটা আমরা বলছি, এটা হচ্ছে মোটা দাগে সবগুলোই আসলে যেহেতু একটা গ্যাজেট আকারে আদেশ আকারে আসবে, অতএব আমরা অতটা ডিটেইলে যাচ্ছি না। এরপরও আরও তিন ধরনের ক্যাটাগরি আছে।

বাস্তবায়ন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়। আমরা আশা করি এই সরকারের সময়কালের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ এবং কমিউনিকেবল ডিজিজ এই যে ট্রানজিশনাল বাংলাদেশে, হেলথের ট্রানজিশন হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ রিফ্লেক্টেড হয়েছে এবারের এই ড্রাগ লিস্টে। মানে সংক্রামক এবং অসংক্রামক ব্যাধি আমাদের একপক্ষ থেকে আরেক পক্ষে যাচ্ছে এবং যে নামগুলো বললেন আপনি, সবগুলো রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার সব ওষুধ তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে। তবে অবশ্যই ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে এর চিকিৎসায় প্রতিনিয়ত যে উন্নতি হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু ওষুধ অত্যাবশ্যক তালিকায় নেই। কিন্তু ডায়াবেটিস, হাঁপানিসহ অন্যান্য অসংক্রামক ব্যাধির জন্য ওষুধগুলো আছে।

/এসও/এপিএইচ/এমওএফ/ 
সম্পর্কিত
‘২০ জেলায় সমন্বিত মেডিক্যাল অক্সিজেন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার’
‘চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, আর কেউ নির্বাচনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন না’
সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
জিয়াউলের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য মঙ্গলবার
জিয়াউলের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য মঙ্গলবার
শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী 
শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী 
গ্রেফতার এড়াতে লিঙ্গ পরিবর্তন, ৮ বছর পর ধরা পড়লেন পলাতক আসামি
গ্রেফতার এড়াতে লিঙ্গ পরিবর্তন, ৮ বছর পর ধরা পড়লেন পলাতক আসামি
রাতের ৩ অভ্যাসেই নষ্ট হচ্ছে শরীরের ছন্দ, এখনই সতর্ক হোন
রাতের ৩ অভ্যাসেই নষ্ট হচ্ছে শরীরের ছন্দ, এখনই সতর্ক হোন
সর্বাধিক পঠিত
রূপপুরের বিদ্যুৎ এলে কতটা কমবে লোডশেডিং?
রূপপুরের বিদ্যুৎ এলে কতটা কমবে লোডশেডিং?
সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি নেত্রী
সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি নেত্রী
অসুস্থতায় ৯ মাস শুটিংয়ে নেই, এবার ফিরতে চান তানিয়া বৃষ্টি
অসুস্থতায় ৯ মাস শুটিংয়ে নেই, এবার ফিরতে চান তানিয়া বৃষ্টি
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান
আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন, সহযোগী সদস্য: এটিএম আজহার
আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন, সহযোগী সদস্য: এটিএম আজহার