প্লাস্টিকের বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তৈরি হচ্ছে নতুন ক্যারিয়ার ‘ইকো-প্যাকেজিং ডিজাইনার’

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক  
১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:২০আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:২০

অনলাইনে কেনাকাটা থেকে শুরু করে খাবার, প্রসাধনী কিংবা পোশাক—প্রায় প্রতিটি পণ্যের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে প্যাকেজিং বা মোড়ক। কিন্তু এসব মোড়কের বড় একটি অংশ ব্যবহারের পর বর্জ্যে পরিণত হয়। বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। তাই পণ্যকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কমানোর বিষয়টিও এখন প্যাকেজিং নকশায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের কাজের ক্ষেত্র। এর মধ্যে অন্যতম ইকো-প্যাকেজিং ডিজাইনার। পরিবেশগত প্রভাব কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পণ্যের মোড়কের নকশা তৈরি করাই এই পেশার মূল কাজ। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই একটি প্যাকেজিংকে ভালো নকশা বলা যায় না। সেটি ব্যবহারযোগ্য, উৎপাদনযোগ্য, ব্যয়সাশ্রয়ী এবং ব্যবহারের পর তুলনামূলক সহজে পুনর্ব্যবহার বা ব্যবস্থাপনা করা যায় কি না, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হয়।

ইকো-প্যাকেজিং কী?

সহজভাবে বললে, পণ্যের মোড়ক তৈরির সময় পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখাই ইকো-প্যাকেজিংয়ের মূল ধারণা।

এ ধরনের প্যাকেজিংয়ে কাগজ, পাট, বাঁশ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান কিংবা নির্দিষ্ট ধরনের পচনশীল উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো উপাদানকে শুধু ‘পরিবেশবান্ধব’ বললেই সেটি পরিবেশের জন্য ভালো—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। উপাদানটি কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে, কতবার পুনর্ব্যবহার করা যায় এবং ব্যবহারের পর কীভাবে বর্জ্য হিসেবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই একজন ইকো-প্যাকেজিং ডিজাইনারের কাজ সাধারণ গ্রাফিক ডিজাইনের চেয়ে আলাদা।

শুধু সুন্দর নকশা করলেই হবে না

একজন প্যাকেজিং ডিজাইনারকে প্রথমে বুঝতে হয় পণ্যটি কী এবং সেটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে। এরপর পণ্যের নিরাপত্তা, আকার, বহনযোগ্যতা, সংরক্ষণ ও উৎপাদন খরচের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মোড়কের নকশা তৈরি করতে হয়।

ইকো-প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবেশগত বিষয়। কোন উপাদান ব্যবহার করলে বর্জ্য কমানো সম্ভব, কোন ধরনের নকশায় উপাদানের অপচয় কম হবে এবং ব্যবহারের পর মোড়কটি পুনর্ব্যবহার বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা কতটা সম্ভব—এসব বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়।

অর্থাৎ এই পেশায় সৃজনশীলতার পাশাপাশি বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও প্রয়োজন।

গ্রাফিক ডিজাইনারদের জন্য নতুন সুযোগ

যারা গ্রাফিক ডিজাইন, ব্র্যান্ড পরিচিতি, পণ্য উপস্থাপন কিংবা ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরিতে দক্ষ, তারা এই ক্ষেত্রটি নিয়ে ভাবতে পারেন।

প্যাকেটের রং, লেখা, চিহ্ন, ছবি, লোগোর অবস্থান এবং সামগ্রিক নকশা পণ্যের প্রতি ক্রেতার আগ্রহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই গ্রাফিক ডিজাইনের দক্ষতা এখানে কাজে লাগতে পারে।

তবে শুধু কম্পিউটারে নকশা তৈরি করতে জানলেই হবে না। প্যাকেজিং কীভাবে বাস্তবে তৈরি হয়, কোন উপাদানে মুদ্রণ ভালো হয় এবং একটি নকশা উৎপাদনের ক্ষেত্রে কতটা বাস্তবসম্মত—এসব বিষয়ও জানতে হবে।

কোথায় কাজের সুযোগ থাকতে পারে?

ইকো-প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজন বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশগত প্রভাব কমাতে চায় বা টেকসই প্যাকেজিং ব্যবহার করছে, তাদের প্যাকেজিং নকশায় এ ধরনের দক্ষতা কাজে লাগতে পারে।

খাদ্য ও পানীয়, প্রসাধনী, পোশাক, জীবনধারাভিত্তিক পণ্য এবং অনলাইন বাণিজ্যের মতো খাতে প্যাকেজিংয়ের ব্যবহার ব্যাপক। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য নকশা, ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিং উন্নয়নের কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া প্যাকেজিং নকশা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী সংস্থা কিংবা নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমেও এই ধরনের কাজ করা সম্ভব।

কী কী দক্ষতা প্রয়োজন?

এই পেশায় যেতে চাইলে কয়েকটি বিষয়ে ভালো ধারণা থাকা দরকার।

গ্রাফিক ডিজাইন: রং, অক্ষর বিন্যাস, ছবি এবং ব্র্যান্ড পরিচিতি নিয়ে কাজ করার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।

প্যাকেজিং নকশা: পণ্যের আকার ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কার্যকর মোড়ক তৈরির ধারণা থাকতে হবে।

উপাদান সম্পর্কে ধারণা: কাগজ, পাট, বাঁশ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদানসহ বিভিন্ন উপকরণের বৈশিষ্ট্য জানা কাজে আসবে।

সৃজনশীল সমস্যা সমাধান: কম উপাদান ব্যবহার করে কীভাবে আকর্ষণীয় ও কার্যকর প্যাকেজিং তৈরি করা যায়, সেটি ভাবতে হবে।

বাজার সম্পর্কে ধারণা: ক্রেতারা কী ধরনের প্যাকেজিং পছন্দ করছেন এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ড কীভাবে নিজেদের পণ্য উপস্থাপন করছে, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা এবং টেকসই নকশার মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

কীভাবে শুরু করবেন?

শুরুতে গ্রাফিক ডিজাইনের পাশাপাশি প্যাকেজিং নকশা শেখা যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট, বোতল, বাক্স ও মোড়কের নকশা পর্যবেক্ষণ করে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, কোন নকশা কেন কার্যকর।

এরপর নিজের একটি নমুনা কাজের সংগ্রহ তৈরি করা যেতে পারে। যেমন—একটি খাবারের প্যাকেট, প্রসাধনীর বাক্স কিংবা অনলাইন পণ্যের পরিবেশবান্ধব মোড়কের নকশা তৈরি করা। সেই সঙ্গে কীভাবে কম উপাদান ব্যবহার করে নকশাটি তৈরি করা যায়, তার ধারণাও দেখানো যেতে পারে।

শুধু চূড়ান্ত নকশা দেখানোর বদলে কেন নির্দিষ্ট উপাদান বা আকার বেছে নেওয়া হয়েছে, সেটিও তুলে ধরলে কাজের দক্ষতা আরও ভালোভাবে প্রকাশ পাবে।

ভবিষ্যতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

প্যাকেজিং বর্জ্যের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের নকশা ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ফলে এমন ডিজাইনারের প্রয়োজন বাড়তে পারে, যারা একই সঙ্গে পণ্যকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন এবং প্যাকেজিংয়ের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখবেন।

তাই যারা গ্রাফিক ডিজাইন ও সৃজনশীল কাজ পছন্দ করেন, কিন্তু গতানুগতিক নকশার কাজের বাইরে ভিন্ন কিছু করতে চান, তাদের জন্য ইকো-প্যাকেজিং ডিজাইন হতে পারে সম্ভাবনাময় একটি ক্যারিয়ার ক্ষেত্র।

ভালো ডিজাইন শুধু কোনও পণ্যকে দেখতে সুন্দর করে না। সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হলে তা উপাদানের অপচয় কমাতেও সাহায্য করতে পারে। সেই জায়গা থেকেই ভবিষ্যতের প্যাকেজিং নকশায় সৃজনশীলতার পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

/জেএ/এম/
আজ আবেদনের শেষ দিন যে সকল চাকরির
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সব চূড়ান্ত, এখন অপেক্ষা ইধিকা পালের
সব চূড়ান্ত, এখন অপেক্ষা ইধিকা পালের
১১:০০ এএম
হাতিয়ায় নৌযোগাযোগ বন্ধ, ঘাটে আটকা পড়েছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন
হাতিয়ায় নৌযোগাযোগ বন্ধ, ঘাটে আটকা পড়েছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন
১১:০০ এএম
হুতি মুখপাত্রের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত
হুতি মুখপাত্রের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত
১০:৫৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী 
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী 
১০:৫০ এএম
চাকরি বিভাগের সর্বশেষ
ক্যারিয়ারের মাঝপথে চাকরি বদলানোর কথা ভাবছেন? যা জানা জরুরি
ক্যারিয়ারের মাঝপথে চাকরি বদলানোর কথা ভাবছেন? যা জানা জরুরি
পদ্মা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, নেই বয়সসীমা
পদ্মা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, নেই বয়সসীমা
কর অঞ্চল-২০, ঢাকায় বড় নিয়োগ 
কর অঞ্চল-২০, ঢাকায় বড় নিয়োগ 
ট্রেইনি রিলেশনশিপ অফিসার নিচ্ছে ট্রাস্ট ব্যাংক
ট্রেইনি রিলেশনশিপ অফিসার নিচ্ছে ট্রাস্ট ব্যাংক
প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে নতুন ক্যারিয়ার ‘ডিজিটাল ওয়েলনেস কোচ’  
প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে নতুন ক্যারিয়ার ‘ডিজিটাল ওয়েলনেস কোচ’