শহুরে কোলাহল ছেড়ে সুইডেনের বনের মাঝে অফ-গ্রিড ছুটি

ফিচার ডেস্ক
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১০ আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১০

শহরের ব্যস্ততা, সারাক্ষণ ফোনের নোটিফিকেশন আর ইন্টারনেটের দুনিয়া থেকে কয়েক দিনের জন্য দূরে থাকতে চান? তাহলে সুইডেনের ভার্মল্যান্ডের লেক এলডান-এর তীরে গড়ে ওঠা ন্যাচুরবিন হতে পারে ভিন্নধর্মী এক গন্তব্য। ঘন পাইন ও স্প্রুস বনের মাঝে থাকা এই কেবিনগুলোতে নেই ওয়াই-ফাই, নেই বিদ্যুৎ। বদলে এখানে রাতের আলো আসে প্যারাফিনের বাতি থেকে, উষ্ণতার জন্য জ্বলে কাঠের চুলা আর জানালার বাইরে থাকে শান্ত হ্রদ ও গভীর সবুজ বন।

এক কেবিন থেকে সাতের গল্প

ন্যাচুরবিনের যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি মাত্র কাঠের কেবিন দিয়ে। উদ্যোক্তা থমাস পেটারসন লেক এলডানের তীরে নিজ হাতে সেই কেবিন তৈরি করেন। এরপর ধীরে ধীরে তৈরি হয় আরও কেবিন কোনওটি গাছের মাথায়, কোনওটি আবার হ্রদের পানির ওপর।

বর্তমানে ন্যাচুরবিনে রয়েছে সাতটি অফ-গ্রিড কেবিন। প্রতিটি কেবিন থেকেই লেকের দৃশ্য দেখা যায়। কয়েকটি কেবিনের ছাদে রয়েছে ঘাসের আস্তরণ, যার ফাঁকে ফাঁকে ছোট ছোট বুনো স্ট্রবেরিও দেখা যায়।

আধুনিক হোটেলের মতো এখানে প্রযুক্তি বা বিলাসী সুযোগ-সুবিধার আয়োজন নেই। বরং কেবিনে থাকার অভিজ্ঞতাটাই তৈরি করা হয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য।

নেই বিদ্যুৎ, নেই ওয়াই-ফাই

ন্যাচুরবিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণই হলো এর অফ-গ্রিড জীবনযাপন। কেবিনগুলোতে বিদ্যুৎ কিংবা ওয়াই-ফাই নেই। রাতে প্যারাফিনের বাতিই হয়ে ওঠে আলোর উৎস, আর কাঠ পোড়ানোর চুলা দেয় উষ্ণতা।

ফলে এখানে কয়েক দিন কাটানো মানে অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর জীবন থেকে বিরতি নেওয়া। ফোনের স্ক্রিনের বদলে জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখা যায় হ্রদ, বন আর আকাশের পরিবর্তনশীল রং।

হ্রদে ক্যানো, বনে এলকের খোঁজ

কেবিনে বসে প্রকৃতি উপভোগের পাশাপাশি বাইরে বেরিয়ে নানা অভিজ্ঞতাও নেওয়া যায়। হ্রদের পানিতে ক্যানো চালানো, আশপাশের জঙ্গলে বনজ খাবার সংগ্রহ কিংবা গাছের আড়ালে এলক দেখতে বেরিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

মাছ ধরার আগ্রহ থাকলে হ্রদ থেকে পাইক মাছ ধরেও রাতের খাবারের আয়োজন করা যায়। অর্থাৎ এখানে ছুটির দিনগুলো শুধু অলসভাবে কাটানোর নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়ার সুযোগও তৈরি করে।

হ্রদের ধারে সনা, রাতে তারাভরা আকাশ

সুইডেনের ঐতিহ্যবাহী সনা সংস্কৃতির স্বাদও পাওয়া যাবে ন্যাচুরবিনে। লেকের তীরেই রয়েছে সনা, যেখানে প্রকৃতির মাঝে উষ্ণতার আলাদা অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়।

আর রাত নামলে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। শহরের আলোর দূষণ না থাকায় পরিষ্কার আকাশে অসংখ্য তারা দেখা যায়। ভাগ্য ভালো হলে উল্কাপাতের ঝলকানিও চোখে পড়তে পারে। চারপাশের নীরবতা আর অন্ধকার আকাশের নিচে রাত কাটানো তাই হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

প্রকৃতির কাছে ফিরতে চান, অথচ সাধারণ ক্যাম্পিংয়ের চেয়ে একটু আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা খুঁজছেন—তাঁদের জন্য ন্যাচুরবিন হতে পারে আদর্শ। এখানে বিলাসিতার সংজ্ঞা বদলে যায়। ওয়াই-ফাই বা টেলিভিশনের বদলে শান্ত হ্রদ, কাঠের কেবিন, বনের নিস্তব্ধতা আর তারাভরা আকাশই হয়ে ওঠে ছুটির আসল আকর্ষণ।

থাকার খরচ: দুজনের জন্য প্রতি রাত প্রায় ১৬০ পাউন্ড থেকে।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

/এমএএল/
সম্পর্কিত
জলরাশির গর্জনময় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার অনন্য জগৎ ইগুয়াজু জলপ্রপাত
ওপেন-জ: ভ্রমণের এই রহস্যময় কৌশল জানেন কি?
পতেঙ্গার বাইরে সমুদ্রের আরেক ঠিকানা খেজুরতলা
সর্বশেষ খবর
যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ৯ দেশে আঘাতের হুমকি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ৯ দেশে আঘাতের হুমকি ইরানের
গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলের কোনও কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়: আইনমন্ত্রী
গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলের কোনও কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়: আইনমন্ত্রী
দিল্লিতে রাবণ বধ করবেন ইয়ামি, বার্তা দেবেন নারীশক্তির
দিল্লিতে রাবণ বধ করবেন ইয়ামি, বার্তা দেবেন নারীশক্তির
জলরাশির গর্জনময় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার অনন্য জগৎ ইগুয়াজু জলপ্রপাত
জলরাশির গর্জনময় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার অনন্য জগৎ ইগুয়াজু জলপ্রপাত
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন