ভ্রমণের জন্য তাজিকিস্তান হয়তো অনেকের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে না। তবে সম্প্রতি দেশটি ঘুরে এক কনটেন্ট নির্মাতার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। তার মতে, পর্যটকদের কাছে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হওয়াই তাজিকিস্তানের অন্যতম আকর্ষণ।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের এই দেশ ঘুরে তিনি তাজিকিস্তানকে বিশ্বের অন্যতম উপেক্ষিত দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভ্রমণের ভিডিওতে উঠে এসেছে দেশটির সুউচ্চ পাহাড়, নীল পানির হ্রদ, সাবেক সোভিয়েত আমলের স্থাপনা এবং নিরিবিলি গ্রামাঞ্চলের দৃশ্য।
তবে প্রকৃতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদের আতিথেয়তাই তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাহাড়ি জনপদ থেকে স্থানীয় বাজার বিভিন্ন জায়গায় মানুষের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। স্থানীয়রা তাকে চা দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই আপনজনের মতো আচরণ করেছেন।
‘এটি বিশ্বের সবচেয়ে উপেক্ষিত দেশ’
ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অঙ্কিতা কুমার বলেন, তাজিকিস্তান মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ অন্য অনেক মুসলিম দেশের তুলনায় আলাদা। তিনি দেশটির আইন, ধর্মীয় অনুশীলন ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণও তুলে ধরেন।
তার ভাষায়, “এটি বিশ্বের সবচেয়ে উপেক্ষিত দেশ। এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও আফগানিস্তানের একেবারে পাশেই অবস্থিত এই দেশে বোরকা নিষিদ্ধ। এমন একটি দেশ, যেখানে মসজিদগুলো নীরব। আজান নেই, প্রকাশ্যে নামাজও হয় না। পুরো দেশে সরকার নিয়ন্ত্রিত মাত্র একটি মাদ্রাসা রয়েছে। এখানে প্রতারণা নেই, বিশৃঙ্খলা নেই, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা, পর্যটকও খুব কম। আর মানুষের মুখে যেন সোনার হাসি।”
তবে তার এসব বক্তব্য মূলত ব্যক্তিগত ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ হিসাবে এসেছে।
পাহাড়, গ্রাম আর বদলে যাওয়া প্রকৃতির রং
তাজিকিস্তানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে অঙ্কিতা বলেন, “দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশই পাহাড়ে ঘেরা। ছোট ছোট গ্রাম, আর সবকিছুই যেন একেবারে নিজস্ব ও অকৃত্রিম। জায়গাটি অবিশ্বাস্য। প্রতি ১০ মিনিট পরপরই প্রকৃতির রং বদলে যায়। প্রতিটি বাঁকেই মনে হয় যেন নতুন কোনও দেশে এসে পড়েছি।”
নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তাজিকিস্তানকে অন্যতম নিরাপদ দেশ বলেও উল্লেখ করেন। পর্যটকদের প্রতি স্থানীয়দের আচরণ এবং বলিউডের প্রতি তাঁদের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
অঙ্কিতার ভাষায়, “এখানকার মানুষ বলিউডকে খুব ভালোবাসে। আর এখানকার মানুষই সবচেয়ে দয়ালু। এটাই তাজিকিস্তান।”
মন্তব্যের ঘরে প্রশংসার ঝড়
ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই তাজিকিস্তানের সৌন্দর্য ও মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করেছেন।
একজন লিখেছেন, “উপেক্ষিত বলেই সুন্দর। যেদিন পর্যটকেরা এখানে আসা শুরু করবে, সেদিন তারা এর সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলবে।”
আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “এটি কতটা সুন্দর! আমি সত্যিই সেখানে যেতে চাই। আর তারা রাজ কাপুরের ভক্ত।”
আরেক ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতা, “তাজিকিস্তান খুবই সুন্দর, স্বাভাবিক ও পরিচ্ছন্ন। গত বছর আমরা সেখানে যাওয়ার সময় স্থানীয় মানুষজনকে খুব আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ পেয়েছিলাম।”
তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের প্রশংসাও করেছেন কেউ কেউ। এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, “রাজধানী দুশানবে বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর। শহরটি অত্যন্ত সুন্দর ও আধুনিকও। পর্যটন খাতও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। তাজিকিস্তান সত্যিই মধ্য এশিয়ার এক লুকানো রত্ন।”
আরেকজন লিখেছেন, “সত্যি বলতে, পুরো মধ্য এশিয়াই খুব সুন্দর।”
অন্য এক মন্তব্যে তাজিকিস্তানের ভাষা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, দেশটির মানুষ ফারসি ভাষায় কথা বললেও রুশ সিরিলিক লিপি ব্যবহার করে। দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এই মধ্য এশীয় দেশটি নিয়ে ভ্রমণপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে। পাহাড়, হ্রদ, গ্রাম আর স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা সব মিলিয়ে তাজিকিস্তান ধীরে ধীরে বিকল্প ভ্রমণগন্তব্য হিসেবে নজর কাড়ছে।









