যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত ‘জন্মপর্যটন’ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ নীতির ঘোষণা দেন। নতুন নীতিতে ভিসা আবেদনে প্রতারণা, বিদেশিদের সন্তান জন্মদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ব্যবস্থা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করা হয়েছে।
কারা পড়বেন নিষেধাজ্ঞার আওতায়
নতুন নীতিটি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এ)(৩)(সি) ধারার অধীনে প্রয়োগ করা হবে। এর আওতায় বাণিজ্যিক জন্মপর্যটন নেটওয়ার্কের মালিক, পরিচালনাকারী ও ব্যবস্থাপকেরা পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ বা সহায়তা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া জন্মপর্যটনের সঙ্গে জেনেশুনে যুক্ত বিদেশি চিকিৎসাসেবাদাতা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা, সহযোগিতা বা সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারেন।
জন্মপর্যটন কী?
জন্মপর্যটন বলতে সাধারণভাবে অন্য দেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশে ভ্রমণ করাকে বোঝায়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে শিশুর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রায়ই যুক্ত থাকে।
তবে বিদেশি কোনো নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি জন্মপর্যটন বলা যায় না। মূল বিষয় হলো ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং ভিসা আবেদনে সেই উদ্দেশ্য সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিতে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশে সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া পর্যটন ভিসার বৈধ উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হয় না। সেই উদ্দেশ্য গোপন করে ভিসা নেওয়া বা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হলে ভিসা জালিয়াতির প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে, চিকিৎসার প্রয়োজনেও বিদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কত জন্মপর্যটক আছেন?
যুক্তরাষ্ট্রে ঠিক কতজন নারী পর্যটন ভিসায় গিয়ে সন্তান জন্ম দেন, তার নির্দিষ্ট সরকারি হিসাব নেই। দেশটির জন্মসংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যানে জন্মপর্যটনকে আলাদা শ্রেণি হিসেবে গণনা করা হয় না।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি ঠিকানার মায়েদের সন্তান জন্মের তথ্য পাওয়া গেলেও, তাদের কতজন শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, তা এসব পরিসংখ্যান থেকে নির্ধারণ করা যায় না।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মপর্যটনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কয়েক লাখ’ শিশুর জন্ম হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে পর্যটন ভিসায় এসে সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের আলাদাভাবে শনাক্ত করার সরকারি তথ্য না থাকায় এই দাবির সঙ্গে তুলনা করার মতো নির্দিষ্ট সরকারি হিসাব নেই।
কেন নতুন নীতি?
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নীতির লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক জন্মপর্যটন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভিসা জালিয়াতি এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো। তাঁর দাবি, কিছু নেটওয়ার্ক বিদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে প্রশিক্ষণ দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মের ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে।
রুবিও আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থার অখণ্ডতা রক্ষা, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো এবং করদাতাদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন।
নতুন নীতিয় বাণিজ্যিকভাবে জন্মপর্যটন পরিচালনা, ভিসা প্রতারণায় সহায়তা এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে আনা হয়েছে। তবে বৈধ চিকিৎসার প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া এবং শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশে ভ্রমণ করে ভিসা আবেদনে তথ্য গোপন করা দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।









