বিমানে জানালার পাশে বসলে একটি বিষয় নিশ্চয়ই চোখে পড়েছে যে, বাড়ি, গাড়ি কিংবা ট্রেনের জানালার মতো বিমানের জানালাগুলো সাধারণত চৌকো নয়। এগুলোর কোণ গোলাকার বা বাঁকানো। দেখতে এটি নকশার অংশ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে বিমানের নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
বিমান যখন আকাশে ওড়ে, তখন তার কেবিনের ভেতরে এবং বাইরের বায়ুচাপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়। এই চাপ বিমানের কাঠামোর ওপর ক্রমাগত প্রভাব ফেলে। চৌকো বা ধারালো কোণযুক্ত জানালায় চাপের ভার এক জায়গায় বেশি জমা হতে পারে। এতে সময়ের সঙ্গে কাঠামোর ওই অংশে দুর্বলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গোলাকার বা বাঁকানো জানালায় চাপ তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জানালার চারপাশের বিমানের কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ জমার সম্ভাবনা কমে। উচ্চতা, চাপের পরিবর্তন এবং দীর্ঘ সময়ের উড্ডয়ন সবকিছুর কথা বিবেচনা করেই তাই বিমানের জানালার নকশায় গোলাকার আকৃতি ব্যবহার করা হয়।
এই নকশার পেছনে বিমান চলাচলের ইতিহাসও রয়েছে। আগের প্রজন্মের কিছু বিমানে তুলনামূলকভাবে চৌকো জানালা ব্যবহার করা হতো। পরে উচ্চতায় উড়তে সক্ষম দ্রুতগতির জেট বিমানের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবিনের চাপ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন জানালার আকৃতিতেও পরিবর্তন আনা হয়।
আধুনিক বিমানের জানালায় সাধারণত একাধিক স্তরের কাচ বা স্বচ্ছ উপাদান থাকে। এগুলো শুধু যাত্রীদের বাইরে দেখার সুযোগ দেয় না, কেবিনের চাপ ধরে রাখার ব্যবস্থারও অংশ। জানালার নকশায় থাকা ছোট ছিদ্রও অনেক সময় কেবিনের চাপের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
অর্থাৎ বিমানের জানালার গোলাকার আকৃতি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়। উচ্চ আকাশে নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে বিমানের প্রতিটি অংশের নকশার মতো জানালার আকৃতিও তৈরি হয়েছে নির্দিষ্ট প্রকৌশলগত প্রয়োজন মাথায় রেখে।