পূজার ছুটিতে কখনও কাছেপিঠে ঘুরতে যাওয়া, কখনও আবার দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে অনেকেরই। শরতের নীল আকাশ আর উৎসবের আমেজে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ার ইচ্ছাও হয় প্রবল। তবে আনন্দের সফর যাতে বিপদের কারণ না হয়ে ওঠে, তার জন্য শুধু সিটবেল্ট বাঁধা কিংবা ট্রাফিক আইন মেনে চলাই যথেষ্ট নয়। গাড়িতে বসার ভঙ্গি থেকে শুরু করে শিশুদের সুরক্ষা কিছু ছোট অভ্যাসও দুর্ঘটনায় আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। গাড়ি ও সফর সংক্রান্ত লেখক শুভম পরাশরের পরামর্শ অনুযায়ী, যাত্রার আগে এই বিষয়গুলি মাথায় রাখা জরুরি।
১. স্টিয়ারিং থেকে রাখুন যথাযথ দূরত্ব
চালকের আসনে এমন ভাবে বসুন, যাতে স্টিয়ারিং ধরতে হাত অতিরিক্ত প্রসারিত করতে না হয় এবং কনুই সামান্য বাঁকানো থাকে। প্যাডেলে পা রেখেও যেন হাঁটু কিছুটা বাঁকা থাকে। এতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। স্টিয়ারিং থেকে খুব বেশি কাছে বসবেন না, বিশেষত এয়ারব্যাগের সামনে।
২. হেডলাইটের আলো ব্যবহার করুন বুঝেশুনে
রাতে বা কম আলোয় গাড়ি চালানোর সময়ে সামনের রাস্তা ও অন্য চালকদের কথা মাথায় রেখে হেডলাইট ব্যবহার করুন। বিপরীত দিক থেকে গাড়ি এলে এবং শহরের আলোকিত রাস্তায় সাধারণত লো-বিম ব্যবহার করাই উপযুক্ত। কুয়াশা বা দৃশ্যমানতা কম থাকলে গাড়ির গতি কমিয়ে সতর্ক ভাবে চালান।
৩. ড্যাশবোর্ডে পা তুলে বসবেন না
দীর্ঘ সফরে আরামের জন্য ড্যাশবোর্ডে পা তুলে বসার অভ্যাস বিপজ্জনক। দুর্ঘটনার সময়ে এয়ারব্যাগ খুলে গেলে পা, কোমর ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগতে পারে। তাই সামনের আসনে বসলে পা রাখুন নির্দিষ্ট জায়গায়।
৪. শিশুকে কোলে নিয়ে যাত্রা নয়
গাড়ি চলার সময়ে শিশুকে কোলে নিয়ে বসা নিরাপদ নয়। দুর্ঘটনার মুহূর্তে প্রাপ্তবয়স্কের হাত দিয়ে শিশুকে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। বয়স, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী উপযুক্ত শিশু-সুরক্ষা আসন ব্যবহার করুন এবং সেটি ঠিকভাবে আটকে নিন।
৫. মাথার হেলান ঠিক করে নিন
আসনের হেডরেস্ট শুধু আরামের জন্য নয়, পেছন থেকে ধাক্কা লাগলে ঘাড়ের আঘাতের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। তাই হেডরেস্টের উচ্চতা এমন ভাবে ঠিক করুন, যাতে তা মাথার পিছনের অংশকে যথাযথ সমর্থন দেয়। গাড়িতে জরুরি পরিস্থিতির জন্য বিশেষ কাচ-ভাঙার যন্ত্র রাখলে সেটি চালক ও যাত্রীদের নাগালের মধ্যে, কিন্তু শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
৬. চুলের ক্লিপ বাছুন সাবধানে
গাড়িতে বসার সময়ে শক্ত ধাতব বা প্লাস্টিকের খোঁপার কাঁটা কিংবা বড় ক্লিপ মাথার পেছনে থাকলে দুর্ঘটনায় আঘাত লাগতে পারে। বিশেষ করে মাথা সিটের সঙ্গে ঠেকে থাকলে অস্বস্তি বাড়ে। তাই সফরের সময়ে নরম ও আরামদায়ক চুল বাঁধার সরঞ্জাম বেছে নেওয়াই ভালো।
৭. গাড়িতে ওঠার আগে চারপাশ দেখে নিন
নির্জন জায়গায় গাড়ি দাঁড় করানো থাকলে ওঠার আগে আশপাশে নজর দিন। গাড়ির পেছনে বা ভেতরে কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ছে কি না, তা খেয়াল করুন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে একা এগিয়ে না গিয়ে নিরাপদ জায়গায় সরে যান এবং প্রয়োজনে সাহায্য চান।
৮. গাড়ির অবস্থান জানিয়ে রাখুন
দীর্ঘ সফরে কোথায় যাচ্ছেন, তা পরিবারের কোনও সদস্য বা বিশ্বস্ত বন্ধুকে জানিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে মোবাইলের লোকেশন শেয়ারিং ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারেন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পৌঁোনোর খবর দিলে জরুরি পরিস্থিতিতে আপনাকে খুঁজে পাওয়া সহজ হতে পারে।
৯. অচেনা ট্র্যাকিং যন্ত্র চোখে পড়লে সতর্ক হন
গাড়ির ভেতরে বা বাইরে কোনও অচেনা যন্ত্র চোখে পড়লে তাড়াহুড়ো করে সেটি খুলে ফেলবেন না। আগে নিরাপদ জায়গায় গিয়ে বিষয়টি যাচাই করুন। যন্ত্রটি সন্দেহজনক মনে হলে বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিন। তবে গাড়ির প্রতিটি অংশ নিয়মিত খুঁটিয়ে পরীক্ষা করলেই যে সব ধরনের নজরদারি শনাক্ত করা যাবে, এমন নয়।
১০. সিটবেল্ট বাঁধুন এবং মনোযোগ দিয়ে গাড়ি চালান
যাত্রা যত ছোটই হোক, চালক ও সব যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা জরুরি। গাড়ি চালানোর সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার, অতিরিক্ত গতি এবং ক্লান্ত অবস্থায় চালানো এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘ পথে বিরতি নিন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। পূজার আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে যেন নিজের বা অন্যের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে দিকে নজর রাখুন।