জাপানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও জাপানের ওসাকার মধ্যে সপ্তাহে চার দিন সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে ভারতীয় এই বিমান সংস্থা। নতুন পরিষেবা চালু হলে দিল্লি-ওসাকা রুটে একমাত্র সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থা হবে এয়ার ইন্ডিয়া বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এই রুটে ব্যবহার করা হবে বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্যও নতুন এই রুটটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ঢাকা থেকে দিল্লি হয়ে জাপান ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে ওসাকায় পৌঁছানোর একটি নতুন বিকল্প পাওয়া যাবে। তবে যাত্রার আগে দিল্লিতে সংযোগকারী ফ্লাইট, ট্রানজিটের শর্ত, ভিসা এবং টিকিটের ব্যবস্থা যাচাই করে নিতে হবে।
দিল্লি-ওসাকা ফ্লাইটের সময়সূচি
এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন ফ্লাইট এআই৩৬০ দিল্লি থেকে ভারতীয় স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকালে জাপানের ওসাকার কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে।
ফেরার ফ্লাইট এআই৩৫৯ ওসাকা থেকে স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে একই দিন ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে দিল্লিতে পৌঁছাবে।
দিল্লি থেকে ওসাকাগামী ফ্লাইট চলবে প্রতি মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার, শনিবার ও রবিবার। ওসাকা থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট চলবে প্রতি সোমবার, বুধবার, শুক্রবার ও রবিবার।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নতুন রুটের টিকিট ধাপে ধাপে বুকিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। সংস্থার সরকারি ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র, বিমানবন্দরের টিকিট কাউন্টার এবং বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে।
বিজনেস ক্লাসে ১৮, ইকোনমিতে ২৪১ আসন
দিল্লি-ওসাকা রুটে বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজে বিজনেস ক্লাসে থাকবে ১৮টি সম্পূর্ণ সমতল করে শোয়ার উপযোগী আসন। ইকোনমি ক্লাসে থাকবে ২৪১টি আসন।
টোকিওর পর জাপানে এয়ার ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় গন্তব্য হতে যাচ্ছে ওসাকা। বর্তমানে দিল্লি থেকে প্রতিদিন এবং মুম্বাই থেকে সপ্তাহে চার দিন টোকিওতে ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি।
এয়ার ইন্ডিয়ার মতে, নতুন পরিষেবা ভারত ও জাপানের মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।
এক সফরে একাধিক শহর ঘোরার সুযোগ
ওসাকায় সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে জাপান ভ্রমণকারীদের জন্য একাধিক শহর ঘুরে দেখার পরিকল্পনা আরও সহজ হবে। পর্যটকেরা ওসাকায় পৌঁছে টোকিও থেকে দেশে ফিরতে পারবেন, কিংবা টোকিও দিয়ে জাপানে ঢুকে ওসাকা থেকে ফিরতে পারবেন। ভ্রমণের এই ধরনের ব্যবস্থাকে ‘ওপেন-জ’ ভ্রমণ বলা হয়।
জাপানের টোকিও, কিয়োটো ও ওসাকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে জনপ্রিয় ‘গোল্ডেন রুট’। এই পথে পর্যটকেরা দেশটির ঐতিহাসিক স্থাপনা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখতে পারেন। সরাসরি ওসাকা ফ্লাইট চালু হলে এই শহরগুলোকে নিয়ে ভ্রমণসূচি সাজানোর ক্ষেত্রে যাত্রীদের বিকল্প বাড়বে।
বাংলাদেশ থেকে জাপানগামী যাত্রীরাও দিল্লি হয়ে ভ্রমণের কথা বিবেচনা করতে পারেন। তবে সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়, একই টিকিটে পুরো যাত্রা বুক করা যাচ্ছে কি না এবং ট্রানজিটের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হতে হবে।
ভারত-জাপান পর্যটনে বাড়ছে আগ্রহ
জাপান ন্যাশনাল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের (জেএনটিও) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিন লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভারতীয় পর্যটক জাপান ভ্রমণ করেছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি এবং প্রাক্-মহামারি সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।
জাপানের সংস্কৃতি, খাবার ও পর্যটন অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতিকেও পর্যটক সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দিল্লি-ওসাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ভারত ও জাপানের মধ্যে যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দিল্লিকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্যও এটি সম্ভাব্য একটি ভ্রমণবিকল্প হতে পারে। তবে বাংলাদেশ থেকে যাত্রার ক্ষেত্রে ভাড়া, সংযোগের সুবিধা ও ট্রানজিট-সংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।