সমুদ্রের ধারে নির্জন সৈকত, বিস্তীর্ণ বালুরাশি আর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা—প্রকৃতির এমন রূপ দেখতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার লালচরে। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা এই চর অল্প সময়েই ভ্রমণপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া নাম ‘এম আলী লালচর’ সমুদ্রসৈকত। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা।
একসময় জনমানবহীন এই চরে ছিল কেওড়া বন আর নানা ধরনের গাছপালা। ২০২১ সালের শীত মৌসুমে এখানে বিস্তীর্ণ সৈকতের রূপ ফুটে ওঠে। লাল কাঁকড়ার উপস্থিতি থেকেই জায়গাটির নাম হয়েছে লালচর। এখন শীতের মৌসুমে সকাল থেকেই পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে সৈকত। নোয়াখালী ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ ছুটে আসেন এই নতুন গন্তব্যে।
লালচরের প্রধান আকর্ষণ তার দীর্ঘ বালুময় সৈকত। সমুদ্রের ধারে হাঁটাহাঁটি, লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি দেখা কিংবা খোলা পরিবেশে সময় কাটাতে পারার জন্য লালচর জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিস্তীর্ণ বালুর ওপর মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগও রয়েছে। সৈকতের পানিতে নেমে স্নান করেন অনেকে। শিশুদের জন্য রয়েছে ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা। পরিবার, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পাশাপাশি অনেকে এখানে বনভোজনের আয়োজনও করেন।
তবে লালচরে পৌঁছনো এখনও খুব সহজ নয়। নদীপথ পেরিয়ে মোটরসাইকেল, সিএনজি বা জিপে করে সৈকতে যেতে হয়। যাতায়াতের রাস্তা বেশ কিছু জায়গায় অনুন্নত হওয়ায় পর্যটকদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয়দের উদ্যোগে কেওড়া বাগানের ভিতর দিয়ে একটি সড়ক তৈরি করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলও গঠন করা হয়েছে।
লালচরের সৌন্দর্য ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও বাড়ছে আশাবাদ। যোগাযোগ ও পর্যটন-পরিকাঠামোর উন্নতি হলে এই সৈকত নোয়াখালীর অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও চলছে।
নির্জন সমুদ্রসৈকত আর প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে হাতিয়ার লালচর হতে পারে নতুন গন্তব্য। তবে যাওয়ার আগে নদীপথের যাতায়াত, স্থানীয় পরিবহণ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পরিকল্পনা করা ভালো।