ভ্রমণের সময় মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেলে সবচেয়ে বড় ভরসা পাওয়ার ব্যাংক। কিন্তু বিমানে ওঠার আগে ব্যাগে পাওয়ার ব্যাংক রাখার ক্ষেত্রে এখন আরও সতর্ক হতে হবে যাত্রীদের। লিথিয়াম ব্যাটারি নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে পাওয়ার ব্যাংক বহন ও ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর হয়েছে। ফলে বিদেশভ্রমণে যাওয়ার আগে পাওয়ার ব্যাংকটি কোথায় রাখবেন, কতটি নিতে পারবেন এবং ফ্লাইটে সেটি ব্যবহার করা যাবে কি না এসব জানা জরুরি।
চেক-ইন ব্যাগে নয়, সঙ্গে রাখতে হবে পাওয়ার ব্যাংক
পাওয়ার ব্যাংক চেক-ইন লাগেজে রাখা যাবে না। এটি অবশ্যই কেবিন বা হ্যান্ড ব্যাগেজে রাখতে হবে। ব্যাগ গেটে নিয়ে গিয়ে যদি সেটিকে চেক-ইন লাগেজ হিসেবে বিমানের কার্গো হোল্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তার আগেই পাওয়ার ব্যাংকসহ অতিরিক্ত লিথিয়াম ব্যাটারি বের করে নিতে হবে।
সর্বোচ্চ দুটি পাওয়ার ব্যাংক
২০২৬ সালের আইএটিএ নির্দেশনায় যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ দুটি লিথিয়াম-আয়ন পাওয়ার ব্যাংক বহনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটির ক্ষমতা ১০০ ওয়াটের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে বিমান সংস্থাগুলো নিজেদের নিরাপত্তানীতির ভিত্তিতে এর চেয়েও কঠোর নিয়ম করতে পারে।
সাধারণভাবে পাওয়ার ব্যাংকের গায়ে এমএএইচ লেখা থাকে। তাই শুধু এমএএইচ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সম্ভব হলে ডিভাইসের ডাব্লিউএইচ (ওয়াট আওয়ার) রেটিং দেখে নেওয়া ভালো। ১০০ ওয়াটের বেশি ক্ষমতার ব্যাটারির ক্ষেত্রে বিমান সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে এবং ১৬০ ওয়াটের বেশি ব্যাটারি সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানে নেওয়া যায় না।
বিমানে বসে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া যাবে না
নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো, বিমানের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পাওয়ার ব্যাংক রিচার্জ করা যাবে না। আইএটিএ একই সঙ্গে ফ্লাইট চলাকালীন পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইস চার্জ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
এ ছাড়া পাওয়ার ব্যাংক ওভারহেড লকারে না রেখে এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনে দ্রুত সেটি দেখা বা সরানো যায়। বিভিন্ন বিমান সংস্থা এ বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত পাওয়ার ব্যাংক বিমানে নয়
ফুলে যাওয়া, ফাটল ধরা, অতিরিক্ত গরম হওয়া কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লিথিয়াম ব্যাটারি বিমানে নেওয়া উচিত নয়। লিথিয়াম ব্যাটারি শর্ট সার্কিট বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পাওয়ার ব্যাংকের সংযোগস্থল বা টার্মিনাল যেন অন্য ধাতব বস্তুর সঙ্গে ঘষা না খায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। আলাদা পাউচ বা সুরক্ষিত কভারে রাখলে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি কমে।
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার সময় বিশেষ করে ট্রানজিট ফ্লাইট থাকলে শুধু একটি বিমান সংস্থার নিয়ম জানলেই হবে না। যে যে এয়ারলাইন ও বিমানবন্দর ব্যবহার করবেন, তাদের বর্তমান ব্যাটারি নীতিও দেখে নেওয়া জরুরি। আইএটিএ-ও জানিয়েছে, স্থানীয় আইন ও বিমান সংস্থার নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের কারণে নিয়মে পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে পাওয়ার ব্যাংকটি হ্যান্ড ব্যাগে রাখুন, এর ওয়াট ক্ষমতা যাচাই করুন, ক্ষতিগ্রস্ত কোনও ইউনিট সঙ্গে নেবেন না এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতে অপ্রত্যাশিত ঝামেলা এড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণও হবে নিরাপদ।









