ট্রাভেলগমনোরম অ্যাভন নদীর পাশে দেখা ব্রিস্টল

Send
রবিউল ইসলাম, লন্ডন থেকে
প্রকাশিত : ২০:১৯, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪২, জুলাই ০৫, ২০১৯

অ্যাভন নদী ও ব্রিস্টল স্টেডিয়ামে ডব্লিউ জি গ্রেসের প্রতিকৃতিসৌন্দর্যের দিক দিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা তিনটি শহরের একটি হলো ব্রিস্টল। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে অ্যাভন নদী। শহরটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে এর জল। নদী থেকে খুব দূরে নয় ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড। মাঠ থেকে দক্ষিণ দিকে তাকালেই চোখে পড়ে মনোরম অ্যাভন নদী। এটি এককথায় শান্ত ও সুন্দর। ব্রিস্টল অ্যাভন নামেও নদীটি পরিচিত। এর দৈর্ঘ্য ৭৫ মাইল (১২১ কিলোমিটার)। অ্যাভন হলো যুক্তরাজ্যের ১৯তম দীর্ঘ নদী। এটি কিছুটা বৃত্তাকার পথে প্রবাহিত হয়েছে।

ইংল্যান্ডের অনেক পুরনো স্টেডিয়াম ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড। এখানকার সুন্দর একটি ইতিহাস রয়েছে। ব্রিস্টল শহরেই জন্মেছিলেন আধুনিক ক্রিকেটের জনক ডব্লিউ জি. গ্রেস। পুরো নাম উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস। ১৮৮৯ সালে মাঠটি কিনে নেন তিনি। শুরুতে এর নাম ছিল অ্যাশলে ডাউন গ্রাউন্ড। ১৮৮৯ সাল থেকে কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব গ্লস্টারশায়ারের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এটি। এই মাঠে এবারের আইসিসি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা আর মাঠে গড়াতে পারেনি। ডব্লিউ জি গ্রেসের কেনা এই মাঠ বাংলাদেশের জন্য লাকি গ্রাউন্ড। ২০১০ সালে এখানেই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল লাল-সবুজের দামাল ছেলেরা।

ব্রিস্টল স্টেডিয়ামঅ্যাভন নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাশে দাঁড়িয়ে ব্রিস্টল স্টেডিয়াম। ফটকে ঢুকতেই চোখে পড়ে ডব্লিউ জি গ্রেসের প্রতিকৃতি। চেনা ঢঙে যেন ক্রিকেট পাড়ার লোকদের অভিবাদন জানাচ্ছেন! পেশায় চিকিৎসক হলেও ক্রিকেট ছিল ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তির আত্মা। ক্রিকেট দুনিয়ায় ‘দ্য ডক্টর’ বা ডব্লিউজি নামেই পরিচিত তিনি। ‘ক্রিকেটের অমর বুড়ো’, ‘সবচেয়ে বিখ্যাত দাড়িওয়ালা লোক’ কিংবা ‘ডব্লিউ জি’ নামেও পরিচিতি ছিল তার। ক্রিকেটের অনেক মজার ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

ডব্লিউ জি’কে নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে ক্রিকেটাঙ্গনে। একবার এক আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর গ্রেস তাকে বলেছিলেন, ‘লোকে গাঁটের পয়সা খরচ করে এখানে তোমার আঙুল দেখতে আসেনি! আমার ব্যাটিং দেখতে এসেছে।’ আরেকবার নাকি বোল্ড হয়ে ছিটকে পড়া বেলগুলো নিজের হাতে তুলে এনে রেখে দেন স্ট্যাম্পের ওপর। চুপচাপ দাঁড়িয়ে যান ব্যাটিং করতে, যেন কিছুই হয়নি! এরপর আম্পায়ারের কাছে গিয়ে বলেছিলেন, ‘ঝোড়ো বাতাসে স্ট্যাম্পের বেল পড়ে গেছে!’

ব্রিস্টল স্টেডিয়ামে লেখকইতিহাস থেকে জানা যায়, শুরুতে অ্যাশলে ডাউন গ্রাউন্ড স্টেডিয়াম স্থানীয় কনফেকশনারি ফার্ম জেএস ফ্রাই অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। এরপর এর নামকরণ হয় ‘ফ্রাইস গ্রাউন্ড’। ১৯৩৩ সালে গ্লস্টারশায়ার আবারও মাঠটি কিনে নেয়। আগের নামই আবারও ফিরিয়ে আনা হয় তখন।

১৯৭৬ সালে আবারও বিক্রি করা হয় ব্রিস্টল গ্রাউন্ড। এবারের ক্রেতা রয়্যাল অ্যান্ড সান অ্যালায়েন্স। তারা স্টেডিয়ামটির নামকরণ করে ফনিক্স কাউন্টি গ্রাউন্ড। আট বছর ছিল এই নাম। এরপর তা পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘দ্য রয়্যাল অ্যান্ড সান অ্যালায়েন্স কাউন্টি গ্রাউন্ড’। নতুন করে ক্লাবটি এই মাঠ কিনে না নেওয়া পর্যন্ত ছিল এই নাম। ক্লাব কর্তৃক মাঠ পুনরায় কেনার পর বর্তমান নাম ফিরিয়ে আনা হয়।
ছবি: লেখক

/জেএইচ/
টপ