বিস্ময়ভরা চোখে আকাশ থেকে বাংলাদেশ

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন, কক্সবাজার থেকে
প্রকাশিত : ২২:২২, জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩১, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

নভোএয়ারের উড়োজাহাজে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোররাককপিট থেকে বেরিয়ে এলেন পাইলট খালিদ শামস। যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘আজকের ফ্লাইটটি বিশেষ। আমাদের সঙ্গে আছে কিছু শিশু-কিশোর, যারা প্রথমবার বিমানে চড়ছে। তাদের সঙ্গী হতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

এসব শিশু-কিশোর সুবিধাবঞ্চিত। তাদের আকাশ ভ্রমণের স্বপ্নপূরণ করেছে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার। আজ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ২০ জনকে আকাশপথে কক্সবাজারে বেড়াতে নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর সুবাদে তারা প্রথমবার বিমান ভ্রমণের সুযোগ পেলো।

কুয়াশা মোড়ানো শীতের সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে নভোএয়ারের এটিআর উড়োজাহাজ। আকাশে উড়তেই শিশু-কিশোররা উল্লাস শুরু করে। তখন সবার মুখে ফুটে ওঠে হাসি। উড়োজাহাজ যত ওপরে উঠলো তাদের বিস্ময় যেন ততই বেড়েছে। তখন জানালা থেকে নজর সরেনি কারও। জানালায় চোখে রেখে নিচে অবাক হয়ে বাংলাদেশ দেখেছে শিশুরা।

নভোএয়ারের উড়োজাহাজে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোররাকিশোর সোহেল রানা বলেছে, ‘ওপর থেকে এভাবে দেখার সুযোগ কোনোদিন হয়নি। অনেক সুন্দর লাগছে। আমাদের বাংলাদেশ এত সুন্দর।’
রেশমা আক্তারের কথায়, ‘আমি অনেক খুশি। এভাবে বিমানে চড়ার সুযোগ পাবো ভাবিনি। ওপর থেকে নদী, ধান ক্ষেত, আকাশসহ অনেক কিছু দেখলাম। সবই অপরূপ লেগেছে।’

মারিয়া আক্তার শারমিন বললো, ‘আগে আমরা মাটি থেকে আকাশের দিকে তাকাতাম। প্লেন উড়ে গেলে তাকিয়ে দেখতাম। আজ আমি নিজেই উড়লাম।’
ফিশ ওয়ার্ল্ডে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোররাআকাশ থেকে কক্সবাজারে নেমে ওরা দেখেছে বিশাল সমুদ্র ও দীর্ঘতম সৈকত। এরপর রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড ঘুরে দেখানো হয় তাদের। এতে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণসহ অচেনা ও বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— সামুদ্রিক শৈল মাছ, হাঙ্গর, পিতম্বরী, আউস, শাপলা, পাতা, সাগর কুচিয়া, বোল, পানপাতা, পাংগাস, চেওয়া, কাছিম, কাঁকড়া, জেলি ফিসসহ অর্ধশতাধিক প্রজাতির মাছ। বিকালে তারা আবারও ফিরে গেছে ঢাকায়।

উম্মে হাবিবা বলেন, ‘মেঘের ওপর দিয়ে উড়োজাহাজে ভেসে যাওয়ার অনুভূতি অসাধারণ। আমরা সৈকতে খেলাধুলা করেছি, ফিশ ওয়ার্ল্ডে গিয়ে নানান প্রজাতির মাছ দেখেছি। অনেক মজা লেগেছে। এই ভ্রমণ আমার কাছে স্বপ্নের মতো।’
তামজিদ ইসলাম বলেন, ‘প্লেনে চড়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে যাবো তা কখনও ভাবিনি। আমাদের এই স্বপ্নটাকে পূরণ করার জন্য নভোএয়ারকে ধন্যবাদ।’

সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান। তার কথায়, ‘শিশুদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্যই আমাদের এই প্রচেষ্টা। নভোএয়ার সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।’
আরও পড়ুন-
কক্সবাজারে সাগরের গর্জন, চাঁদের আলো, মৃদু হাওয়া

সাগরতলের রহস্য জানতে রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে পর্যটকদের ভিড়


কক্সবাজারে সামুদ্রিক মাছের জাদুঘর
কক্সবাজারে প্রতিদিন ৬টি ফ্লাইট যাবে নভোএয়ারের



/জেএইচ/
টপ