স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পর্যটনবর্ষ ঘোষণার উদ্যােগ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৩৮, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৪, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

বক্তব্য রাখছেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীবেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে ২০২১ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণার উদ্যােগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে পর্যটনবর্ষ পালন করতে চাই আমরা।’ শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘বাংলাদেশের পর্যটন: সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব জানান। এর আয়োজন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ম্যাগাজিন ভ্রমণ।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি প্রাপ্তির পর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণার ব্যাপারে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তার নেতৃত্বে দেশে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

মাহবুব আলী মনে করেন, পর্যটন প্রতিযোগিতার বাজার। এই খাতে যত বেশি সেবা মিলবে ততই ঝুঁকবেন পর্যটকরা। তার কথায়, ‘সেবার মান নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন বিকশিত হবে। আগে হয়নি বলে এখন হবে না এমন কোনও কথা নেই। ইচ্ছে, উদ্যম ও পরিশ্রম থাকলে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব। আমরা যদি পরিশ্রম করি ও উদ্যমী হই তাহলে পর্যটনে অবশ্যই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া পর্যটন করপোরেশনকে অবশ্যই উদ্যমী হতে হবে। গতানুগতিক কাজের মাধ্যমে পর্যটনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’

বিভিন্ন কারণে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ হয়নি বলে মন্তব্য প্রতিমন্ত্রীর। তার আশা, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সব স্টেকহোল্ডারের সুপারিশ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, জাতীয় সংসদ ভবনসহ সব ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনার ব্র্যান্ডিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের।

মাহবুব আলী আরও বলেন, ‘পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের সম্ভাবনা ও ঘাটতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করছেন তারা। একইসঙ্গে পর্যটন খাতের উন্নয়নে পরামর্শষ দেবেন। আমরা সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবো।’
বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে মানসিকতায় পরিবর্তন এনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তার মন্তব্য, ‘বিদেশি অতিথিদের প্রতি সবার শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। সহনশীলতা ছাড়া পর্যটনের বিকাশ সম্ভব নয়। পর্যটন বিকাশের জন্য আমাদের জাতি হিসেবে পর্যটনবান্ধব হতে হবে।’ 


প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সবখানে এখন পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরতে পারছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন করায় দেশের প্রতিটি পর্যটন গন্তব্যে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।’

ট্রাভেল ম্যাগাজিন ভ্রমণের সম্পাদক আবু সুফিয়ানের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মহিবুল হক, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোকাব্বির হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান ও গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওয়াজিশ আলী খান।

/সিএ/জেএইচ/
টপ