হাসি ফোটাতে করোনাভাইরাস আকৃতির খাবার!

Send
জার্নি ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৫৫, এপ্রিল ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৪, এপ্রিল ০৮, ২০২০

করোনাভাইরাস থিমের বার্গারকোভিড-১৯ মহামারির কারণে সংকটে গোটা পৃথিবী। অসহায় মানুষকে এ সময় ত্রাণ দিতে চলছে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের শেফরা করোনাভাইরাস থিমের সুস্বাদু খাবার তৈরি করে আলোচনায় এসেছেন।

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে পিৎজা টাউন দোকানের শেফ হাং তুং সংক্রামক রোগটির জুজু কাটাতে বানিয়েছেন করোনাভাইরাস থিমের বার্গার। ওপরের অংশ কিছুটা মুকুটের মতো নকশা করায় এটি দেখতে জীবাণুটির ছবির মতো!

করোনাভাইরাস থিমের বার্গারশেফ হাং তুং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা মজার চলে বলে থাকি, কোনও কিছুকে ভয় পেলে তা খেয়ে ফেলা ভালো! তাই করোনাভাইরাস আকৃতির বার্গার খাওয়ার পর আর এই জীবাণু নিয়ে ভীতি থাকবে না। এর মাধ্যমে মহামারির সময় সবার মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছি।’

রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, এখন প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত বার্গার বিক্রি হচ্ছে দোকানটিতে। মহামারির কারণে বন্ধ হতে বসা ব্যবসা অনুযায়ী এই সংখ্যা বেশ ইতিবাচক।

প্যাস্ট্রি শেফ জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া প্রেঁফ্রান্সে প্যাস্ট্রি শেফ ও চকোলেট বিক্রেতা জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া প্রেঁ তৈরি করেছেন করোনাভাইরাস আকৃতির ইস্টার এগ (ডিম)। চকোলেট এগটির রঙ কালো। এর ওপর ব্যবহৃত বাদামের টুকরোগুলোতে লাল রঙ দেওয়া হয়েছে। ফলে মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখলে করোনাভাইরাস যেমন লাগে এটি সেই অবয়ব পেয়েছে।

ফরাসি ভাষার পত্রিকা লে টেলিগ্রামকে শেফ জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া প্রেঁ জানান, করোনাভাইরাস সম্পর্কে শুনে ক্লান্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিকে কিছুটা হালকা করতেই ডিমগুলো তৈরির কথা ভাবেন তিনি।

করোনাভাইরাস আকৃতির ইস্টার এগ (ডিম)ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমে ব্রিটানির লন্ডিভিজ্যু এলাকায় নিজের দোকানে গত মাসের শুরু থেকে চকোলেট এগ বিক্রি করছেন জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া প্রেঁ।

এদিকে জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া অঞ্চলের ডর্টমুন্ডে অবস্থিত শ্যুয়ের্নার ব্যাকপ্যারাডিস নামের একটি বেকারি তাদের মেন্যুতে যুক্ত করেছে করোনাভাইরাস বিষয়ক ভিন্নধর্মী থিমের দুটি নতুন খাবার। এর মধ্যে একটি হলো ফেস মাস্ক ইমোজি’র বিস্কুট সংস্করণ। এছাড়া তিম কর্তুয়েমের মালিকানাধীন এই বেকারি বিক্রি করছে টয়লেট পেপার আকৃতির কেক!

টয়লেট পেপার আকারের কেককোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বজুড়ে টয়লেট পেপারের চাহিদা বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে কাড়াকাড়ির ঘটনাও দেখা গেছে। এ কারণে অনেক দেশে এর ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই চকোলেটের কেক সাদা হাওয়াই-মিঠাইয়ে ঢেকে বাইরের অংশ টয়লেট পেপারের মতো আকার দেওয়া হয়।

ফেস মাস্ক ইমোজির বিস্কুট সংস্করণকেকটি গ্রাহকদের মধ্যে অল্প সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাই প্রতিদিন অন্তত ২০০টি কেক বানাচ্ছে শ্যুয়ের্নার ব্যাকপ্যারাডিস বেকারি।

রয়টার্স টেলিভিশনকে তিম কর্তুয়েম জানান, কঠিন পরিস্থিতিতে টয়লেট পেপার কেকের মাধ্যমেই যা একটু ব্যবসা হচ্ছে তার। তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা এটি নিয়ে পুরোপুরি উত্তেজিত। বেশিরভাগ মানুষ এই দুঃসময়ে কিছু আনন্দ পেতে এই বেছে নিচ্ছেন।’

টয়লেট পেপার আকারের কেকফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো জার্মানিও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তাই পার্সেল বিক্রি করা রেস্তোঁরা ও বেকারি ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে রচেস্টার শহরের ডোনাটস ডেলাইট একটি খাবার উৎসর্গ করেছে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফসিকে। তার ছবি ব্যবহার করে ডোনাট বানিয়ে বিক্রি করছে ওই দোকান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্স সদস্য। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের পরিচালকের দায়িত্ব আছে তার কাঁধে। সোজা-সাপ্টা কথা বলে জনসাধারণের আস্থাভাজন হয়েছেন মার্কিন জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনআইএইচ) এই চিকিৎসক। 

ডোনাটস ডেলাইটের স্বত্বাধিকারী নিক সেমেরারো আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশীদের চাঙা করার জন্য একটি উপায় খুঁজছিলাম। তখন ড. ফসিকে লক্ষ্য করি। এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস পরিস্থিতি যেভাবে সামাল দিচ্ছেন তিনি তা আমাদের ভালো লেগেছে। চরম সংকটের সময় সবাইকে সঠিক তথ্যসহায়তা দিয়েছেন তিনি। তাই আমরা প্রতিদান দিতে ও ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছি তাকে।’

ড. অ্যান্থনি ফসির ছবি ব্যবহার করে বানানো ডোনাটড. ফসির মুখ ভোজ্য কাগজে প্রিন্ট করে বাটারক্রিম-ফ্রস্টেড ডোনাটের ওপর জুড়ে দিয়ে বিক্রি হচ্ছে। ডোনাটস ডেলাইট কর্তৃপক্ষ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি, এই সাধারণ ভাবনা দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। নতুন ডিজাইনের ডোনাট কয়েকশ’ বিক্রির আশা ছিল তাদের। কিন্তু ইতোমধ্যে হাজারখানেক বেচা হয়ে গেছে। আমেরিকার একাধিক রাজ্য ও শহরের ক্রেতারা ডোনাট সরবরাহের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করছে। তাই যতদিন চাহিদা থাকবে এই ডোনাট বিক্রি করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকানটি।

স্বত্বাধিকারী নিক সেমেরারোর কথায়, ‘আমাদের এই ডোনাট এতটা জনপ্রিয় হয়ে যাবে তা আমার ধারণাতেও ছিল না। ড. অ্যান্থনি ফসির জন্য অন্যদের মধ্যেও আমাদের মতোই অনুভূতি কাজ করছে কে জানতো! ক্রেতারা আমাদের ধন্যবাদজ্ঞাপন করে চিরকুট পাঠাচ্ছে। তারা আমাদের দোকানের প্রশংসা করছে।’
কলকাতার একটি দোকানে করোনাভাইরাস আকৃতির সন্দেশকরোনাভাইরাস আকৃতির সন্দেশ বানিয়ে বিক্রি করছে কলকাতার একটি মিষ্টির দোকান। এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। লকডাউনে কলকাতায় প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পার্সেল বিক্রির জন্য খোলা রাখা যাচ্ছে। 
করোনাভাইরাস আকৃতির পিৎজার খবর এখনও শোনা যায়নি। তবে এই খাবারও তৈরি হতে হয়তো আর বেশিদিন লাগবে না!

/জেএইচ/
টপ