যে প্রক্রিয়ায় কাতার এয়ারওয়েজের ১ লাখ টিকিট ফ্রি পাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা

Send
জার্নি ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৪০, মে ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৭, মে ১৩, ২০২০

কাতার এয়ারওয়েজকোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বজুড়ে সামনের সারিতে বীরত্বপূর্ণ কাজ করছেন পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মীরা। এজন্য ধন্যবাদজ্ঞাপন হিসেবে তাদের বিনামূল্যে ১ লাখ টিকিট দিচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ। কাতার, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যেকোনও দেশের চিকিৎসক, মেডিক্যাল প্র্যাক্টিশনার, নার্স, প্যারামেডিক, ফার্মাসিস্ট, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ক্লিনিক্যাল গবেষকরা এই সুবিধা পাবেন। কাতারের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই বিমান সংস্থার ওয়েবসাইটে ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে এদিন থেকে বিনামূল্যে বিভিন্ন গন্তব্যের ইকোনমি ক্লাসের রিটার্ন টিকিট দেওয়া শুরু করেছে কাতার এয়ারওয়েজ। আগামী ১৮ মে দোহা সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এজন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে (qatarairways.com/ThankYouHeroes) লগ-ইন করে একটি ফরম জমা দিলে প্রোমোশন কোড মিলবে। যারা আগে আবেদন করবেন তারা আগে টিকিট পাবেন। এ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে আবেদনকারীর দেশের জনসংখ্যার আকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক টিকিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

প্রোমোশন কোড পেলে প্রত্যেক স্বাস্থ্যকর্মী যেকোনও গন্তব্যে যেতে কাতার এয়ারওয়েজের দুটি করে ইকোনমি ক্লাসের রিটার্স টিকিট বুকিং দিতে পারবেন। ফলে নিজের সঙ্গে একজন করে সঙ্গী নেওয়া যাবে। বিমানবন্দরে চেক-ইনের সময় তাদের বৈধ আইডি উপস্থাপন করতে হবে। 

এ বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণ করা যাবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা চাইলে বিনামূল্যে যাত্রা ও ফেরার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। টিকিটের মূল্য ছাড়াও সারচার্জ মওকুফ থাকবে। তবে বিমানবন্দরের কর দিতে হবে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের বিনামূল্যে রিটার্ন টিকিটের পাশাপাশি দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন ডিউটি ফ্রি দোকানে ৩৫ শতাংশ ছাড় পাওয়ার ভাউচার দেবে কাতার এয়ারওয়েজ। এর মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আকবর আল বাকের বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মহাসংকটের মধ্যে মানুষকে সেবা দিতে স্বাস্থ্যকর্মীরা কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এজন্য কাতার এয়ারওয়েজ কৃতজ্ঞ। তাদের উদারতা, আন্তরিকতা ও বীরত্বপূর্ণ পেশাদারিত্ব অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। এবার আমাদের প্রতিদান দেওয়ার পালা। যদিও এসব সাহসী নারী-পুরষের ঋণ শোধ করা যাবে না। তবুও আমরা আশা করি, আমাদের উপহার দেওয়া রিটার্ন টিকিটের মাধ্যমে তারা প্রাপ্য ছুটি উপভোগের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন।’

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তিন মাস ধরে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কাতার এয়ারওয়েজ। এর মধ্যে শতাধিক চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে সংস্থাটি।
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী আরোপিত অবরোধের (লকডাউন) কারণে অনেকে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের স্বদেশে ফেরায় অগ্রণী ভূমিকা রেখে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। যাত্রীদের প্রত্যাবাসনের পর এবার স্বাস্থ্যকর্মীদের উপহার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

কাতার এয়ারওয়েজ সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মান বজায় রাখছে। এর মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজে নিয়মিত জীবাণুনাশক ছিটানো, আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সমিতি (আইএটিএ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শ অনুযায়ী পণ্য ব্যবহার, কেবিন ক্রু সদস্যদের থার্মাল স্ক্রিনিং, উড়োজাহাজে রাখা সব কম্বল নিয়মিত ধোয়া, হেডসেট থেকে কানের ফোম পরিবর্তন ইত্যাদি।
কাতার এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজযুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন রেটিং সংগঠন স্কাইট্র্যাক্সের দৃষ্টিতে ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইন অ্যাওয়ার্ডসের ১৯তম আসরে ‘এয়ারলাইন অব দ্য ইয়ার’ স্বীকৃতি পায় কাতার এয়ারওয়েজ। সব মিলিয়ে পাঁচবার এই পুরস্কার এসেছে তাদের ঘরে। আর কোনও এয়ারলাইনের এই অর্জন নেই। এভিয়েশন শিল্পে পুরস্কারটি ‘অস্কার’তুল্য। কারণ ভ্রমণকারীদের ভোটে বিজয়ী নির্বাচিত হয়। বিশ্বসেরা বিজনেস ক্লাস, সেরা বিজনেস ক্লাস আসন ও মধ্যপ্রাচ্যের সেরা এয়ারলাইন পুরস্কার দেওয়া হয় এই বিমান সংস্থাকে।

কাতার এয়ারওয়েজের বহরে এখন ২৫০টিরও বেশি উড়োজাহাজ আছে। বিশ্বের একহাজারেরও বেশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৬০টিরও বেশি গন্তব্যে প্রতিদিন ১৪ হাজার ২৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের বিজনেস ক্লাসেই প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয় ডাবল বেড।

/জেএইচ/
টপ