ট্রাভেলগহারিয়ে গেলাম রাজেন্দ্রপুরের জঙ্গলে!

Send
শান্তনু চৌধুরী
প্রকাশিত : ১৭:০৮, জুলাই ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৮, জুলাই ২২, ২০২০

রাজেন্দ্রপুর ইকো রিসোর্টশহর থেকে একটু দূরে। শালবনে হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে হলো। বেশিদূর নয়। আমাদের গন্তব্য গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে।

ঢাকার উত্তরা থেকে রওনা দিয়েছি সকাল ৯টার দিকে। আমিসহ মোট ২১ জন। বেশিরভাগই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের। দুপুর ১২টার কাছাকাছি সময়ে আমরা পৌঁছালাম রিসোর্টে। প্রায় ৮০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে এটি। পুরোটাই জঙ্গলের ভেতর। এখানে আছে একই আকৃতির ১৯টি ভবন। চারদিকে সবুজের সমারোহ দেখে মন ভরে ওঠে। পাখির কলতানে অভ্যর্থনা পেরিয়ে আমরা হারিয়ে যেতে লাগলাম গহীনে।

রিসোর্টের সামনে ছোট একটি বাজারের মতো রয়েছে। সেখানে স্থানীয়রা মৌসুমি ফল বিক্রি করছেন। এছাড়া আছে চায়ের স্টল। ডান পাশ ধরে এগিয়ে যেতে চোখে পড়ে মাঝারি আকারের একটি মাঠে গরু চরাচ্ছে রাখালেরা।

রাজেন্দ্রপুর ইকো রিসোর্টকিছুক্ষণ পর আমরা উঠলাম ওয়াচ টাওয়ারে। ওপর থেকে পুরো বন দেখতে অসাধারণ লাগছে। এছাড়া একসঙ্গে দেখা গেলো বিস্তীর্ণ মাঠ, ২৬টি কটেজ পার্ক, সুইমিং পুল, ম্যাসাজ পার্লার ও ক্যাফেটেরিয়া। চারপাশে ঘন বন, মাঝে রিসোর্টগুলো দাঁড়িয়ে। কয়েকটি রিসোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে শালবন ছোঁয়া যায়। প্রতিটি ভবনের ছাদে আছে অবজারভেশন টাওয়ার। এতে উঠলে পুরো বন দেখা যায়।

সূর্য যখন মধ্য গগনে, হাওয়ায় তখন আগুনের আঁচ। সুইমিং পুলে বেশ দাপাদাপি চললো আমাদের। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আনন্দটা ছিল বেশি। গ্রামীণ পরিবেশে আহার শেষে বিকালের দিকে সবাই একজোট হয়ে মাঠের দিকে রওনা দিলাম। সেখানে হাঁড়িভাঙাসহ নানান খেলার আয়োজন। আক্ষরিক অর্থে খেলা নয়, কেউ লাফাচ্ছে, কেউ দৌড়াচ্ছে। কেউ ব্যাডমিন্টন তো কেউ ক্রিকেট নিয়ে মেতেছে, কেউবা প্রিয়জনকে নিয়ে একটু আলাদা বসে গল্প করছে।

বেলা শেষের পাঠে বসেছে সূর্য। যেহেতু গহীন বনে আছি, তাই ঠিক কোন গাছের আড়ালে গোধূলির আলো লাজে রাঙা হয়ে লুকিয়ে পড়ছে বুঝে ওঠা মুশকিল। অরণ্যে সন্ধ্যা নামে ঝুপ করেই। এরপর যেন আমরা পথহারা পথিক।

সন্ধ্যার খাবারে ছিল ভাঁপা ও চিতল পিঠা। তারপর একটি সুন্দর রাতের জন্য অপেক্ষা। খোলা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে রিসোর্টের ছাদে বসে পড়ি আমরা। যেহেতু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিপত্য, তাই শাটল ট্রেনের হারানো গানে মেতে উঠি। মেতে উঠি ফেলে আসা সোনালি দিনগুলো ভেবে।

রাজেন্দ্রপুর ইকো রিসোর্টযেভাবে যাবেন
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সোজা ময়মনসিংহ সড়ক ধরে পাঁচ কিলোমিটার যেতে হবে। এরপর রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট কিংবা কাপাসিয়ার দিকে যাওয়া পথ ধরে আরও চার কিলোমিটার গেলেই ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। এখান থেকে হাতের বাঁ-দিকে ছোট্ট একটা রাস্তা চলে গেছে বনের দিকে। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার গেলে চোখে পড়বে গ্রিনটেক রিসোর্ট। পাশের পথ দিয়ে আরও সোয়া দুই কিলোমিটার বনের মধ্যে ঢুকলেই রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট।

ছবি: লেখক

/জেএইচ/
টপ