পদ্মা নদীর শিলাইদহ ঘাটে ঘুরে বেড়ানো

Send
ইমরোজ খোন্দকার বাপ্পি, পাবনা
প্রকাশিত : ১৮:৩৫, আগস্ট ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৫, আগস্ট ০৯, ২০২০

শিলাইদহ ঘাটে ভ্রমণপ্রেমীরাপাবনা শহরের অদূরে পদ্মা নদীর তীরে শিলাইদহ ঘাট বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। নদীর এপার থেকে চোখ মেলে তাকালে প্রকৃতির অপরূপ শোভা মুগ্ধ করে। ওপারে কুষ্টিয়া জেলা আর কবিগুরুর কুঠিবাড়ি। স্থানীয়দের আশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পাবনাবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হতে পারে শিলাইদহ ঘাট।

বর্ষায় থই থই পদ্মার পানি, আঁকাবাঁকা নদীর গতিধারা আকর্ষণীয়। শরতে নদীতীরে ও নদীর মাঝে জেগে থাকা চরে কাঁশফুল ফোটে। পদ্মার বুকে ডিঙি ও ইঞ্চিনচালিত নৌকায় চড়ে বেড়ান ভ্রমণপিয়াসীরা। নৌকায় চলে বাউল গান। নদীকে পেছনে রেখে রক্তিম সূর্য ডুবে যাওয়ার ক্ষণকে সেলফি ধরে রাখতে মেতে ওঠেন অনেকে।

শিলাইদহ ঘাটে নৌকায় বাউল গানপদ্মা নদীবেষ্টিত শিলাইদহ ঘাট হয়ে উঠেছে ভ্রমণপ্রেমীদের চিত্তবিনোদনের জায়গা। প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে জনসমাগম থাকে। দুপুরের পর থেকে পরিবার, স্বজন, প্রিয়জন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনেকে বেড়াতে আসে এখানে। নানান শ্রেণিপেশার হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নদীর পাড়। নাগরদোলা ও চরকিতে শিশুদের কোলাহল চোখে পড়ে।

ঘাট ও নদীর পাড়ে হরেক রকম খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়। ফুসকা, বাদাম, ঝালমুড়ি, হালিম, চটপটির ক্রেতা বেশি দেখা যায়। টেনিস বল ছোড়ার খেলা ও ইয়ারগান দিয়ে বেলুন ফোটানোর আনন্দ তো আছেই।

পাবনা শহর থেকে শিলাইদহ ঘাটে যাওয়ার যাতায়াত ব্যবস্থা হিসেবে আছে রিকশা, অটোরিকশা, অটো সিএনজি, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, পায়ে টানা ও ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান। কোমরপুর ও বাংলাবাজার লঞ্চঘাট থেকে গ্রামের মাঝ দিয়ে সরু ও বাঁকা রাস্তা চলে গেছে। বাংলা সাহিত্যের চিরচেনা কবি প্রয়াত ওমর আলীর গ্রাম পেরোলেই শিলাইদহ ঘাট।

শিলাইদহ ঘাটে ভ্রমণপ্রেমীরাপাবনায় উল্লেখ্যযোগ্য কোনও বিনোদন কেন্দ্র নেই। শিলাইদহ ঘাটে আসা একাধিক নারী-পুরুষের কথায়, ‘সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে। মন্দের ভালো ভেবেই আমরা এখানে বেড়াতে আসি। সরকারিভাবে এই জায়গা রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে পর্যটনের বিকাশ হতে পারে।’

কয়েকজন তরুণের মন্তব্য, শিলাইদহ ঘাট এককথায় অপূর্ব। নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানকার সৌন্দর্য অপার। কিন্তু এখানে নিয়মশৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। যানবাহন রাখার নির্ধারিত কোনও স্থান নেই। এক্ষেত্রে নিয়মকানুন থাকলে পরিবেশ ভালো হতো বলে মনে করেন তারা।

প্রায় শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন শিলাইদহ ঘাট। তাদেরই কয়েকজন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, প্রতি শুক্রবার ভিড় থাকে বেশি। তাদের মতে, সরকারিভাবে এই স্থান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে পাবনাবাসী চিত্তবিনোদনের সুযোগ পাবেন।

শিলাইদহ ঘাটে নৌকাপাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ ইতোমধ্যে শিলাইদহ ঘাট পরিদর্শন করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টার ত্রæটি থাকবে না। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে বিষয়টি অবহিত করা হবে। সরকারি দিকনির্দেশনা পেলে কার্যকর পদক্ষেপের ব্যাপারে ভাববেন তিনি।

/জেএইচ/
টপ