আকিজ কোম্পানিকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কোম্পানির বিভিন্ন প্রমোশনাল উপকরণ (ছাতা, ২৫ কাটুন (১৮০০শত) চায়ের কাপ, ১০টি পয়েন্ট অব সেল, লিফলেট, বিভিন্ন ডিজাইনের রঙিন বিজ্ঞাপন, তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্ককরণ বাণী ছাড়া সিগারেটের প্যাকেট ও জর্দার কৌটা) জব্ধ করা হয়।
ওয়ারী থানা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় বৃহস্পতিবার হাটখোলা, ওয়ারীতে (অভিশার সিনেমা হলের পাশে) অবস্থিত আকিজ কোম্পানির গোডাউনে এই অভিযান চালানো হয়।
এসময় আইন অনুযায়ী সব তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে অবশ্যই ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্ককরণ বাণী লিপিবদ্ধ করার আদেশ দেন ভ্রাম্যমান আদালত। এই আদেশ অমান করলে পরবর্তী মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কোম্পানিকে দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে বলেও জানানো হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করেপোরেশন ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (ব্যবহার) নিয়ন্ত্রণ আইনের বাস্তবায়ন করার উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাঈদ এবং মামুন সরদার ভ্রাম্যমান আদালতের এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, আইন অনুসারে সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার প্রচারনা নিষিদ্ধ এবং তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্ককরণ বাণী বাধ্যতামূলক। কিন্তু তামাক কোম্পানীগুলো আইনকে অবজ্ঞা করে তাদের এই সকল অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে। আইনে দেশের সকল পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ ও ধূমপানমুক্ত সাইনেজ ব্যবহার করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এই মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করেন।
পরে একই এলাকায় অভিসার সিনেমা হলে ধূমপানমুক্ত সাইনেজ না লাগানোর জন্য অভিসার সিনেমা হলের ম্যানেজারকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয় । অভিসার সিনেমা হল এলাকায় তিন জন ধূমপায়ীকে ১০০ টাকা করে মোট ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সিনেমা হল একটি পাবলিক প্লেস। তাই এটি আইনানুসারে ধুমপানমুক্ত রাখা সকল নাগরিকের দায়িত্ব বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
উল্লেখ্য, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন তার তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীকে একটি ধূমপানমুক্ত নির্মল স্বাস্থ্যকর পরিবেশের লক্ষে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর উদ্বদ্ধুকরণের মাধ্যমে মহানগরীর দক্ষিণ সিটিকর্পোরেশন আওতাধিন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস্) অনুসারে দেশে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ লোক ধূমপান অথবা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করছে অন্যদিকে পাবলিক প্লেস অথবা পাবলিক পরিবহণে ৪ কোটি ২০ লাখ লোক কোন বা কোন ভাবে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। ধূমপান না করেও স্বাস্থ্য ক্ষতির ঝুকি থেকে মুক্তিপাচ্ছে না অধূমপায়ী জনসাধারন। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০১৩, অনুসারে তামাকজাত দ্রব্যের সকল ধরনের প্রচার প্রচারনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
/এসআই/এমএনএইচ/








