তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের চিকিৎসার বিষয়ে পুলিশ খোঁজ-খবর নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘পুলিশ একটি বড় বাহিনী। এখানে অতি উৎসাহী কেউ থাকতে পারেন। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অতি উৎসাহী কোনও সদস্য এ ঘটনা ঘটালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সোমবার বিকালে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় কাবাডি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় বিভাগ কাবাডি লীগ-২০১৭-এর ফাইনাল খেলায় পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই এসব বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমানের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একেএম শহীদুল হক বলেন, ‘পুলিশ বিরাট বাহিনী। ক্রাউড কন্ট্রোলের জন্য যখন যায়, তখন কেউ কেউ থাকতে পারে। ক্রাউড কন্ট্রোলের জন্য আমরা বার বার নির্দেশনা দেই। এমন কেউ অতি উৎসাহী কাজ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আইজিপি আরও বলেন, ‘যেহেতু একটি অভিযোগ উঠছে। ঘটনা ঘটছে। এটা তদন্ত করবে। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে। যদি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও রকম ত্রুটি থাকে, পুলিশ যদি দায়ী থাকে, আমরা ব্যবস্থা নেব।’ তিনি বলেন, ‘দুই ধরনের বক্তব্য আছে। পুলিশ বলে তারা করেনি, কেউ ফুলের টব মেরেছে, ঢিল মেরেছে। কেউ বলে পুলিশের টিয়ারশেল। টিয়ার শেল মারলে সাধারণত আমরা সাধারণত ৩০ বা ৪০ ডিগ্রি কোণে মারি। এভাবে কখনও টিয়ারশেল মারি না। এটা একটু অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তবু ঘটনা কিছু একটা ঘটছে। সত্যিকারের ঘটনা বের করার জন্য তাই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সততা নিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসায় যেন ত্রুটি না হয়, সে জন্য আমরা খেয়াল রাখছি। আমরা দেখতেছি, যেন সঠিক চিকিৎসা হয়।’
গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা রুটিনের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে কর্মসূচি পালন করে। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। আঘাতে তার দুচোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় পুলিশের সমালোচনা হয় সর্বত্র। সমালোচনার মুখে ঘটনা তদন্তে পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
এদিকে, দ্বিতীয় বিভাগ কাবাডি লীগ-২০১৭-এর ফাইনাল দিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, মৌলভীবাজার ২৩-১৭ পয়েন্টে আইডিয়াল ক্রীড়া চক্রকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও বিজিত দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি ও আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের উপ-মহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিঝিল বিভাগ) মোহাম্মদ আনোয়ার ও বন্দর স্টিল মিলস লি. এর মো. ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (সংস্থাপন) হাবিবুর রহমান, লীগ কমিটির চেয়ারম্যান ও পুলিশ কমিশনার (ওয়ারী বিভাগ) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক এআইজি (ডেভেলপমেন্ট) গাজী মো. মোজাম্মেল হক ও ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।
/এআরআর/এমএনএইচ/







