রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাক আহম্মেদ (২০)। গত ২৬ আগস্ট ধানমন্ডি ১৫ নাম্বার স্টার কাবারের সামনে থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ইশরাকের বাবা জামালউদ্দীন আহম্মেদ গত ২৭ আগস্ট ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওসি বলেন, ‘কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করতেন ইশরাক। গত জুন মাসে তিনি ছুটিতে ঢাকায় আসেন। সর্বশেষ ২৬ আগস্ট বন্ধুদের সঙ্গে স্টার কাবাবের পাশে ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের সামনে আড্ডা দেন। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সবাই যার যার মতো চলে যান। ইশরাকও স্টার কাবাব থেকে ইডেনের দিকে হেঁটে আসেন। এরপর আবার বিপরীত দিকে ফিরে যান। এরপর তিনি কোথায় গেছেন, তা আর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়নি।’
এদিকে নিখোঁজের পর এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, ‘ইশরাকের বর্তমান লোকেশন আমরা এখনও ট্রেস করতে পারিনি। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তথ্য প্রযুক্তিসহ সব কিছু মিলিয়ে আমরা খুঁজছি। তার বন্ধু-বান্ধবসহ যাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু তারা কিছু জানাতে পারেননি।’
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের কাছে কেউ কোনও মুক্তিপণ চায়নি। তাদের কাছে কোনও ফোনও আসেনি। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে। তবে অপহরণ ছাড়া কোনও ধরনের উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে নিখোঁজ হয়েছেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
নিখোঁজ ইশরাকের বাবা জামাল উদ্দিন আহম্মেদ ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা জিডিতে বলেছেন, ‘২৬ আগস্ট ২০১৭ ইং তারিখে সন্ধ্যা ৮টা ৩০ মিনিটে আমার ছেলে ইশরাক আমার স্ত্রীর মোবাইলে কল করে জানায় যে, সে তার বন্ধুদের নিয়ে স্টারকাবাব রেস্টুরেন্টে এ খাওয়া-দাওয়া করে ফিরবে। কিন্তু রাত পর্যন্ত সে বাসায় ফেরেনি। তার পাসপোর্ট নম্বর এএফ ৪৭৩২৯৫৭। তার গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা। উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। পরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্ট। মাথার চুল কালো রংয়ের।’
যোগাযোগ করা হলে জামাল উদ্দিন আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার তিন সন্তানের মধ্যে ইশরাক সবার বড়। ও যেখানে গিয়েছিল, সেখান থেকে বাসা কয়েক মিনিটের পথ। কিন্তু বাসায় না এসে হঠাৎ কোথায় গেলো, বুঝতে পারছি না। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন, যেন তাকে ফিরে পেতে পারি।’
জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সিসিটিভিতে দেখেছি ও বন্ধুদের বিদায় দিয়ে বাসার দিকে ফিরছিল। কিন্তু বাসায় ফিরে আসার পথে আবার উল্টো দিকে ফিরে যায়। এ সময় তার এক বন্ধুকে অন্য পথে চলে যেতে দেখা যায়। আমরা সবকিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। তারা চেষ্টা করছে।’







