X
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২
১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

পিন্টুর বাসায় গিয়ে ষড়যন্ত্র করার মতো ছোটখাটো লিডার ছিলেন না তারেক রহমান: আইনজীবী

জামাল উদ্দিন
০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০৫:১০আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৪০

 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা একজন মন্ত্রীর বাসায় ঢুকতে হলে নাম এন্ট্রি করতে হয় বলে উল্লেখ করেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামি হানিফ পরিবহনের স্বত্বাধিকারী মো. হানিফের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার। তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান ছোটখাটো লিডার ছিলেন না যে, তিনি আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় গিয়ে ষড়যন্ত্র করবেন।’ বুধবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার আদালতে আসামি হানিফের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট চৈতন্য চন্দ্র হালদার মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত-১-এ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামি হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। বুধবার (৩ জানুয়ারি) তিনি হানিফের পক্ষে তার অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এদিন তিনি আদালতকে বলেন, ‘মো. হানিফ কোথায় আছেন, আমরা কেউ জানি না। তার পরিবার জানতে পারে। হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে, তিনি পলাতক আছেন কেন? যে ঘটনা ও মামলার ভিকটিম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সে ঘটনায় তার মনে ভয় থাকতেই পারে। সে জন্যই হয়তো পলাতক রয়েছেন। একজন আসামির পলাতক থাকার মানে এই নয় যে, তিনি অপরাধ করেছেন।’

যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট চৈতন্য চন্দ্র হালদার আদালতকে বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর বাসায় ঢুকতে হলে নাম এন্ট্রি করে ঢুকতে হয়। সিকিউরিটি গার্ড থাকেন। তাও আবার বাইরের কোনও গার্ড থাকে না। পুলিশ সদস্যরা থাকেন। কয়টায়, কোন রুমে গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্রের মিটিং হয়েছে, ওই বাসার কেউ হানিফকে দেখেছেন কিনা, সেসব বিষয়ে একজন সাক্ষীও আনতে রাষ্ট্রপক্ষ আনতে পারেনি। একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও আদালতে বলেননি যে, মো. হানিফকে দেখেছেন। প্রত্যেক সাক্ষী বলেছেন, পত্র-পত্রিকায় জানতে পেরেছেন হাওয়া ভবনে হানিফসহ সহযোগী আসামিরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে শলা পরামর্শ, ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে মুফতি হান্নান বলেছে, হাওয়া ভবন হচ্ছে বনানী। আর আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসা হচ্ছে ধানমন্ডি। তার পুরো জবানবন্দি সাংঘর্ষিক। ১৯ জন সাক্ষীও কিন্তু বলেছে হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের সঙ্গে মিটিং করেছে। কিন্তু মুফতি হান্নান দেখালো ধানমন্ডিতে। কোথায় বনানী আর কোথায় ধানমন্ডি?’

অ্যাডভোকেট চৈতন্য চন্দ্র হালদার বলেন, ‘মো. হানিফ হাওয়া ভবনে যাননি। সাক্ষীরা বলেছেন হাওয়া ভবনে গিয়েছেন। মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় জবানবন্দিতে এসেছে ধানমন্ডি প্রসঙ্গ।’ এ সময় দ্রুত বিচার আদালত-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন আবার অ্যাডভোকেট চৈতন্য চন্দ্র হালদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১১ সালের ৭ এপ্রিল আদালতে আবেদন করে একটি জবানবন্দি দেয় মুফতি হান্নান। সেখানে আহসানুল্লাহ কাজল ওরফে মাওলানা আবু তাহের ওরফে মুফতি হান্নান তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘আমরা ধানমন্ডিতে আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবনে যাই। সেখানে আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, মাওলানা তাজ উদ্দিন, কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ ও হানিফ পরিবহনের হানিফ উপস্থিত ছিলেন। আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জমান বাবর বলেন যে, কমিশনার আরিফ ও হানিফ আপনাদের সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। আমাদের সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে।’

আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র সরকার বলেন, ‘১৯ জন সাক্ষী বলেছেন, বনানীর হাওয়া ভবনে সব ধরনের শলা পরামর্শ, ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা হয়েছে। তারেক রহমান কিন্তু আবদুস সালাম পিন্টুর বাসায় যাননি। উনি এত ছোটখাটো লিডার ছিলেন না।’

হানিফের বিরুদ্ধে ১২০/বি ধারায় আনীত অভিযোগ সম্পর্কে অ্যাডভোকেট চৈতন্য চন্দ্র হালদার বলেন, ‘হানিফের বিরুদ্ধে এ ধারাটিও প্রমাণিত হয়নি। তিনি কী ধরনের সাহায্য করেছেন? টাকা দিয়েছেন? গাড়ি দিয়েছেন? গ্রেনেড মেরেছেন? কোথায় কখন ষড়যন্ত্র করেছেন, কোনও সাক্ষীই আদালতে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি। বিস্ফোরক আইনের তিনটি অভিযোগও হানিফের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য নয়।’ তাই মো. হানিফকে খালাস দেওয়ার দাবি জানান এই আইনজীবী।  

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আরেক পলাতক আসামি বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে গিয়ে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী আশরাফ উল আলম আদালতকে বলেন, ‘আইনি প্যাঁচে ফেলে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্যই কায়কোবাদকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি যখন এ মামলার আসামি হন, তখন স্পিকারের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। এত বড় মামলায় সম্পূরক চার্জশিটে তার নাম আসায় তিনি আর দেশে ফিরে আসার সাহস পাননি।’

আইনজীবী আশরাফ উল আলম আদালতকে বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা পৃথিবীর একটি বর্বরতম ঘটনা। এই অপতৎপরতার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া আরেকটি মানবতার লঙ্ঘন। রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি যে, কায়কোবাদ জড়িত। বিস্ফোরক মামলায়ও কায়কোবাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ আসেনি। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কায়কোবাদ এ ঘটনার পরিকল্পনায় ছিলেন। তবে তা  কোনও সাক্ষী বলেননি।’

আশরাফ উল আলমের ‘আইনি প্যাঁচ’ শব্দটি নিয়ে আদালতের কাছে আপত্তি জানিয়ে সেটা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। এরপর আদালত আশরাফ উল আলমের কাছে এর ব্যাখ্যা চাইলে তিনি ‘স্যরি’ বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে তিনি কায়কোবাদের খালাসের আবেদন করেন। 

এছাড়া পলাতক আসামি মো. খলিলের পক্ষে আইনজীবী খলিলুর রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী আবু তৈয়ব ও আনিসুল মোরসালিন ওরফে মোরসালিনের পক্ষে আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ আসামিকে নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত-১-এ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারি বাকি পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে।  

/এমএনএইচ/
ফ্রান্সকে হারিয়েও তিউনেশিয়ার বিদায়
ফ্রান্সকে হারিয়েও তিউনেশিয়ার বিদায়
১৮ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দিনাজপুর পৌরসভার
১৮ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দিনাজপুর পৌরসভার
ডেনিশদের হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া নকআউট পর্বে
ডেনিশদের হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া নকআউট পর্বে
বাখমুতের কাছে দুটি ইউক্রেনীয় গ্রাম দখলের দাবি রাশিয়ার
বাখমুতের কাছে দুটি ইউক্রেনীয় গ্রাম দখলের দাবি রাশিয়ার
সর্বাধিক পঠিত
লুট হওয়া ১১ অস্ত্র মিয়ানমার থেকে ফেরত পাওয়ার আশা বিজিবির
লুট হওয়া ১১ অস্ত্র মিয়ানমার থেকে ফেরত পাওয়ার আশা বিজিবির
ফিফার মান বাঁচালেন ‘বিটিএস’ জাংকুক!
ফিফার মান বাঁচালেন ‘বিটিএস’ জাংকুক!
রিট করার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট
ইসলামী ব্যাংকের ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণরিট করার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট
৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ
৪ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন চলাচল বন্ধ
তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতা
তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতা