বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আদালত ১৮ বার তারিখ ধার্য করলেও সেই প্রতিবেদন জমা পড়েনি। আজ বৃহস্পতিবারও (৯ জানুয়ারি) ওই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। এদিনও প্রতিবেদন জমা না পড়লে তা জমা দেওয়ার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক এই আদেশ দেন।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় এবং বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
আদলতের বেঞ্চ অফিসার তৌহিদুল ইসলাম জানান, এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৮টি তারিখ ধার্য হলেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। ফলে আদালত নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন ১৮ ফেব্রুয়ারি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খালেদা জিয়া বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আজকে বলা হয়, এত শহীদ হয়েছে। এটা (মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা) নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।
অন্যদিকে, মামলার আরেক আসামি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন, তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন? আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার অপরাধ করেছেন। সেই অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিক। এরপর আদালত ১৮ বার এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেই প্রতিবেদন এখনও জমা দিতে পারেনি পুলিশ।
আরও পড়ুন-
জেলা জজ পদে পদোন্নতির দ্বার খুললো বিচারকদের
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন বাতিলে আপিল শুনানি ২৩ জানুয়ারি








