যেকোনও ধরনের উসকানিতে পুলিশকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের সদ্য বিদায়ী আইজি এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘এটা নির্বাচনের বছর। নির্বাচনের বছর অনেক ষড়যন্ত্র হবে। পুলিশকে ধৈর্যের সঙ্গে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, যেন মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।’ বুধবার (৩১ জানুয়ারি) পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া সেন্টারে তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের ওপর বিএনপিকর্মীদের হামলার বিষয়ে ইঙ্গিত করে বিদায়ী আইজিপি বলেন, ‘গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে, সে রকম ঘটনা সামনে আরও ঘটবে। তাই যেকোনও উসকানিতে পুলিশকে ধৈর্য ধরে এগুতে হবে।’ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে তিনি পুলিশ বাহিনীকে ২০টি নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও এসময় সাংবাদিকদের জানান।
মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে এ কে এম শহীদুল হককে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অ্যাডিশনাল আইজি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শহীদুল হক বলেন, ‘দায়িত্বকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে যেসব ষড়যন্ত্র ও বাধা এসেছিল, সেগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। যতদিন বেঁচে থাকব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই বেঁচে থাকব।’ তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে যে আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য হয়েছিল, সেই অবস্থা থেকেও আমরা উত্তরণ করতে সক্ষম হয়েছি। দেশে যেন কোনও অগণতান্ত্রিক সরকার আসতে না পারে, সেজন্য দায়িত্বের পুরো তিন বছর এক মাস কাজ করেছি।’
২০১৮ সালকে নির্বাচনের বছর উল্লেখ করে শহীদুল হক বলেন, ‘অনেকেই বলে এটা নির্বাচনের বছর। অনেক চ্যালেঞ্জ। সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে নতুন আইজিপিকে সহযোগিতা করতে হবে।’
কর্মজীবন থেকে পূর্ণ সন্তুষ্টি নিয়ে বিদায় নেওয়ার কথা জানিয়ে বিদায়ী আইজিপি বলেন, ‘আমার মধ্যে কোনও প্রকার হতাশা নেই। সবার কাছ থেকেই সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি।’
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনেকেই আগুন সন্ত্রাস ও জামায়াত-শিবির চক্রের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড. এসএম মনিরুজ্জামান, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি শোয়েব রিয়াজ আলম, টাঙ্গাইল পিটিসির অতিরিক্ত ডিআইজি সালেহ মো. তানভির, গাজীপুর জেলার এসপি হারুন অর রশীদ, মুন্সীগঞ্জ জেলার এসপি জাহেদুল আলম, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তা ধর, এএসপি সাদিয়া আফরিন, ইনস্পেক্টর ফরহাদ হায়দার, সাব ইনস্পেক্টর রাশেদ, প্রধান সহকারী আলী হোসেন ও কনস্টেবল কেয়া খাতুন বক্তব্য রাখেন।
নতুন আইজিপি তার বক্তব্যে বলেন, ‘২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধের শক্তির বিরুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়েছি। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত পুলিশ কখনও পরাজিত হয় না। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুলিশের জন্য হচ্ছে একটি বিনিয়োগ।’ তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমন গোটা পৃথিবীর কাছে একটি বিস্ময়। প্রধানমন্ত্রীর ২০২১ ও ২০৪১ সালের ভিশন ছুঁতে চাইলে পুলিশের বর্তমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।’








