বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘তার অনেক রায় বিভিন্ন ল’ রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তার রায়ের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন। তার আদর্শ আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে।’বুধবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিভিন্ন প্রবন্ধ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন সৎ, কর্মঠ, কর্মপরায়ণ, ন্যায়পরায়ণ, ধর্মপরায়ণ ও অতিথিপরায়ণ। তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দিয়েছেন। তার অনেক রায় বিভিন্ন ল’ রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তার রায়ের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন। তার আদর্শ আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে।‘
এর আগে প্রয়াত বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরীর দীর্ঘ কর্মময় জীবনকে স্মরণ করে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও আইনজীবীরা। তারা বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি আমিরুল কবির একজন ন্যায়পরায়ণ ও সত্যনিষ্ঠ বিচারপতি ছিলেন। তিনি এমন কোনও কাজ করতেন না, যাতে সুষ্ঠু বিচার করা হলেও মামলার কোনও পক্ষ মনে করে যে ন্যায়বিচার হয়নি।
বিচারপতি আবদুস সালাম মামুনের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম, আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম, বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি, বিচারপতি জে বি এম হাসান, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সিনিয়র আইনজীবী লায়েকুজ্জামান মোল্লা, বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী (৭৮) গত ১ মে মৃত্যুবরণ করেন।
বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী ১৯৪০ সালের ২৩ জুন কক্সবাজারের রামু উপজেলার নোনাছড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৭ সালে অবসরের পর শ্রম ও আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন এবং ২০০৮ সালে নবগঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান।







