জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে করা আপিলের ওপর আগামী তিন কার্যদিবসের (৪, ৭ ও ৮ অক্টোবর) মধ্যে আইনি যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (৩ অক্টোবর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার বদরেুদ্দোজা বাদল।
খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে হাইকোর্টে যে আপিল করেছিলেন তার ওপর ১৫দিন শুনানি হয়েছে। এরপর গত ২ অক্টোবর শুনানির দিন ছিল। তারা স্বল্প সময়ের আবেদন করেও সেদিন (২ অক্টোবর) শুনানিতে আসেননি। আজ দুপুরে ২টায় এসে তারা আবারও সময় আবেদন করেন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করলেও বিকাল চারটার সময় এসে খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করেন। তখন আমি আদালতকে বলি, তারা তো এক মিনিটও আপিলের ওপর শুনানি করলেন না। অথচ জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি চাইলেন। পরে আদালত খালেদা জিয়ার জামিন ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন। এছাড়া আগামী ৪, ৭ ও ৮ অক্টোবরের মধ্যে তাদের আইনি যুক্তি শেষ করাতেও নির্দেশ দেন আদালত।’
এর আগে গত ১২, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৯, ৩০, ৩১ জুলাই, ৮ ও ১৩ আগস্টসহ মোট পনেরো দিন খালেদা জিয়ার আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি হয়। এরপর গত ২ অক্টোবর ও ৩ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ থাকলেও খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সময় আবেদনের কারণে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাস চেয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিলসহ মোট চারটি আবেদনের ওপর শুনানি হবে। খালেদা জিয়া আপিল ছাড়াও এ মামলা শুনানির অপেক্ষায় থাকা আরও তিনটি আবেদন হলো—খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে করা দুদকের আবেদন (রিভিশন), একই মামলার ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদের করা পৃথক দুটি আপিল।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।








