মামলার রায় হওয়ার পর তা নিয়ে টক শো’তেও আলোচনা হয় বলে মন্তব্য করেছ্নে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারপতিরা বলেন, ‘আমাদের কথা নিয়ে বাইরে অনেক কথা হয়, টক শো’তে কথা হয়। আপনাদের কারণে আমাদের সমস্যা হয়। আমাদের প্রোমোশন আটকে যায়। আপিল বিভাগে প্রমোশন পেতে সমস্যা হয়।’ দেশের বিশেষায়িত কোনও হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিকালে বুধবার (৩ অক্টোবর) বিচারপতিরা এসব কথা বলেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এদিন, শুরুতেই মামলার শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি করেন। এ সময় আদালত বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) জেল কাস্টডিতে আছেন। তাই তিনি বলতে পারেন না, তিনি এখানে যাবেন (নিজের পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতালে), ওখানে যাবেন না। তিনি ট্রিটমেন্টে যান, এটা আপনারা চান কিনা?’ জবাবে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘হ্যাঁ চাই। তার নিরাপত্তার জন্যই তো এসেছি।’ এরপর তিনি আরও কিছুক্ষণ শুনানি করেন। শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আমাদের (বিচারপতিদের) কথা নিয়ে বাইরে অনেক কথা হয়, টক শো’তে কথা হয়। আপনারা (আইনজীবীরা) নিজেদের রেষারেষির মধ্যে আমাদের টানবেন না। কোনও মামলার রায় দিলে তা তো একটি পক্ষেই যায়। তখন তারা সে রায় নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা শুরু করেন।’
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল দাঁড়িয়ে আদালতকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে এমনটা (আলোচনা-সমালোচনা) কখনোই হয় না।
এ জে মোহাম্মদ আলীর পর শুনানিতে আসেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তখন জয়নুল আবেদীনের উদ্দেশে করে আদালত বলেন, ‘আপনাদের কারণে আমাদের সমস্যা হয়। আপনাদের সময় (বিএনপি সরকারের আমলে) কলমের খোঁচায় ১০জন জজকে নাই করে দিয়েছেন। আপনারাই সুপ্রিম কোর্টের জায়গায় আগুন জ্বালিয়েছিলেন। এ জে মোহাম্মদ আলী আপনিও করেছেন।’ এ সময় এ জে মোহাম্মদ আলী আইনজীবীদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে দাঁড়িয়ে বিচারপতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমিও?’ এরপর তিনি আইনজীবীদের দাঁড়িয়ে শুনানি করার নির্ধারিত স্থানের কাছে যান। আগে থেকেই সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তার পাশে গিয়ে মোহাম্মদ আলী আদালতের কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘কী করেছি আমি?’
জবাবে আদালত বলেন, ‘হ্যাঁ, আপনারাই করেছেন। আগে জাজমেন্ট দিতে গেলে এদিক (বাদী পক্ষের আইনজীবীদের দিকে তাকিয়ে), ওদিক (বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের দিকে তাকিয়ে) চিন্তা করতে হতো। আর এখন এদিক-ওদিক ছাড়াও এ দিকের (আঙুল দিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ নিজের দিকে ইশারা করেন) চিন্তা করতে হয়। অথচ তাদেরও তো (বিচারপতিদের) সন্তান পরিবার-পরিজন, মান-সম্মান রয়েছে। সেটা কেউ চিন্তা করে না।’
এরপর আদালত খালেদা জিয়াকে দেশের বিশেষায়িত কোনও হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানি শেষ করে এর ওপর আদেশের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়েরের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘রিটে বিশেষায়িত কোনও হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার নির্দেশ এবং এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।








