ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘‘একটি টিভি টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। সেই কারণে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ ওই মন্তব্যের জন্য ফোন করে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন, লিখিতভাবেই সরি বলেছেন। তারপরও তিনি (মাসুদা ভাট্টি) মামলা করেছেন, যা আমরা আশা করিনি।’ রবিবার (২১ অক্টোবর) মানহানির দুই মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আগাম জামিন পাওয়ার পর তার আইনজীবী হিসেবে জয়নুল আবেদীন এসব কথা বলেন।
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে জামালপুর ও ঢাকায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে আদালত ৫ মাসের জামিন মঞ্জুর করেছেন।’ তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, ‘জামালপুরে যিনি মামলাটি করেছেন তিনি যুব মহিলা লীগের সদস্য। তাহলে বোঝা যায় এর পেছনে একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। যার কাছে ক্ষমা চাইলাম (মাসুদা ভাট্টি) তিনিও মামলা করলেন। এটা দুঃখজনক। সেই কারণেই মইনুল হোসেন হাইকোর্টে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেছেন। আদালত উভয় মামলায় তাকে আগাম জামিন দিয়েছেন।’
নিজের আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া জানানোর পর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘আমি একটি জাতীয় ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি। আমাকে অত্যন্ত অপমান করা হয়েছে জামায়াতের এজেন্ট বলে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আর কিছু বলবো না।’
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৬ অক্টোবর রাতে ৭১ টেলিভিশনে মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় ‘৭১ জার্নাল’ টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। এরপর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রবিবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মাসুদা ভাট্টি বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
পাশাপাশি মইনুল হোসেনের একই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রবিবার (২১ অক্টোবর) সকালে তার বিরুদ্ধে জামালপুরের আদালতে ২০ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন যুব মহিলা লীগের জামালপুর শাখার আহ্বায়ক ফারজানা ইয়াসমিন লিটা। আদালত ওই মামলা আমলে নিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে এরইমধ্যে বিকালে হাইকোর্ট থেকে তিনি আগাম জামিন পান।








