নিম্ন আদালতের দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দণ্ড স্থগিতের বিধান নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেছেন, ‘চাইলে আবেদনকারী আপিল বিভাগে যেতে পারেন। আপিল বিভাগ এ ব্যাপারে একটি প্রিন্সিপাল সেটেল (নীতি নিষ্পত্তি) করতে পারেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট তা অনুসরণ করতে পারে।’
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ফাঁসের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের দণ্ড স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়ে সোমবার (২৬ নভেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যবেক্ষণসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম নিজেই শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ।
অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দণ্ড স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল। রবিবার এটা খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার দণ্ড বহাল আছে। যদি আজকে তার সাজাটা স্থগিত হতো তাহলে রাজনৈতিকভাবে যারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আছে তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতো। আজকের আদেশের ফলে তাদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগটা থাকলো না।’
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় ফাঁসের মামলায় ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টার ফখরুলকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেন বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম শামসুল আলম।
এছাড়া ম্যানেজার মাহবুবুল হাসান, ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের জুনিয়র আইনজীবী মেহেদী হাসান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী ফারুক আহমেদ ও নয়ন আলীকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী খালাস পান।
ব্যারিস্টার ফখরুলকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয়মাস এবং অন্য চারজনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ছয়মাস করে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।
ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের পর ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এ অবস্থায় তার নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তাই ওই দণ্ড স্থগিত চেয়ে আবেদন জানালে তা খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।








