রাজধানীর গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশন কার্যালয়ে চুরির ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চুরির পরিকল্পনা করেছিল সজল ওরফে কালু। ভাঙা দেয়াল দেখেই হাইকমিশনে চুরির পরিকল্পনা করে সে। বুধবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে গুলশান থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো, মোস্তফা (৩৫), দুলাল মিয়া (৩৪), সজল ওরফে কালু (২২), জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), নিমাই বাবু (৪২) ও সেকুল ইসলাম (৩৫)। তাদের হেফাজত থেকে ৩টি সিপিউ, দুটি ইউপিএস, একটি মনিটর এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি ভ্যানগাড়ি উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) পাকিস্তান হাইকমিশনের এসি, কম্পিউটারের সিপিইউসহ মালামাল চুরি হয়। ২৫ নভেম্বর হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে গুলশান থানায় মামলা করা হয়। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতনামা চোরেরা হাইকমিশনের এসি খুলে অফিসের ভেতরে ঢুকে তিনটি সিপিইউ, চারটি ইউপিএস, একটি এসিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।
ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ২৫ নভেম্বর অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিআইডির টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে একজন একটি এসি বের করে ভ্যানগাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরও দুইজন তিনটি সিপিইউ বের করে একটি সিএনজিতে করে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর গুলশান-বনানী এলাকার প্রায় এক হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পর সেগুলো পর্যালোচনা করে একজনের চেহারা শনাক্ত করতে পারি। সেই ছবিটি এলাকার সুইপারদের দেখালে তারা একে কালু বলে চিহ্নিত করে। তখন কালুর বাসায় গিয়ে তাকে গ্রেফতার করলে পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসে।
তিনি বলেন, কালু এলাকায় বোতল কুড়াতো। পাকিস্তান হাইকমিশনের পেছনে বোতল কুড়াতে গিয়ে ভাঙা দেয়াল দেখে চুরির পরিকল্পনা করে সে। তারপর বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মোস্তফা ও দুলালের সহায়তায় প্রথমে এসিটি চুরি করে। তারপর ভবনের ভেতরে গিয়ে সিপিইউ ও ইউপিএসগুলো চুরি করে পালিয়ে যায়।
ডিসি মোস্তাক বলেন, গ্রেফতারের পর তিনজনের দেওয়া তথ্যমতে, যাদের কাছে এসব জিনিসপত্র বিক্রি করেছিল তাদের গ্রেফতার করা হয়। এবং সেখান থেকে কম্পিউটারের তিনটি সিপিইউ ও দুটি ইউপিএস উদ্ধার করা হয়। তবে চুরির এসিটি যার কাছে বিক্রি করেছিল সেটি অক্ষত পাওয়া যায়নি। কারণ, সেটি ভেঙে পার্সগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, ‘এ এলাকায় আমরা সবসময়ই সতর্ক থাকি। এ ঘটনার পর আমরা হাইকমিশনকে দেয়াল ঠিক করতে এবং সিসিটিভি বাড়িয়ে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছি। উদ্ধারকৃত মালামাল চেক করে দেখার জন্য হাইকমিশন কর্তৃপক্ষকে ইনভাইট করা হয়েছে। তারা এসে দেখলে বোঝা যাবে সিপিইউগুলোতে কী ছিল।’







