সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো। তার নাম সোহেল শিকদার (৪৮)।
শুক্রবার (৫ জুলাই) দুপুরে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিএমপির ভাসানটেক এলাকার রূপালী হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে সোহেল শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালি। তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।’
পিবিআই জানিয়েছে,সোহেল নিজেকে এমইএস-এর ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি পেতে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। শিপন প্রতাব (২৪) নামে এক তরুণকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার এইচএসসি, এসএসসি এবং অন্যান্য কাগজপত্রের মূলকপি রেখে দেয়। পরবর্তীতে দেখা হলে চাকরি হয়ে গেছে জানায় সোহেল। এজন্য শিপনের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। চাকরি পাওয়ার আশায় শিপন তার মা, বোন এবং ভাবির স্বর্ণের গয়না বিক্রি করে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সোহেলের বাসায় গিয়ে টাকা দিয়ে আসে। ওইদিনই সোহেল সেনা সদর, ইইনসি’র শাখা পূর্ত পরিদফতর, ঢাকা সেনানিবাসের অফিস সহকারী পদে একটি নিয়োগপত্র শিপনকে দেয়। যাতে যোগদানের জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ উল্লেখ থাকে। নিয়োগপত্রে উল্লেখিত তারিখের বিষয়ে তিনি জানতে চাইলে সোহেল তাকে পুনরায় ৯ মার্চ যেতে বলেন। এসময় শিপনের কাছে আরও তিন লাখ টাকা দাবি করেন সোহেল। ৯ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪ টায় শিপন ধারদেনা করে আরও তিন লাখ টাকা দেন। শিপন নিয়োগপত্রে যোগদানের উল্লেখিত তারিখে যোগদান করতে গেলে সোহেল তাকে ঢাকার সিএমএইচে মেডিক্যাল টেস্ট করতে বলে। পরে সোহেল শিপনকে মেসেজ দিয়ে জানায় ১৭ মার্চ মেডিক্যাল টেস্ট করানো হবে। সেই তারিখ অনুযায়ী শিপন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মাটিকাটা চেকপোস্টে যায়। সেখানে সোহেল তাকে দাঁড় করিয়ে রেখে চলে যায়। ওইদিন রাতে পুনরায় একই নম্বর থেকে মেডিক্যাল টেস্ট করানো সংক্রান্তে নতুন তারিখ দিয়ে মেসেজ পাঠায়। এরপর শিপন প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ছয় লাখ টাকা ও জমা করা কাগজপত্র ফেরত চাইলে সোহেল আত্মগোপনে চলে যায়।
দুইমাস আত্মগোপন থাকার পর পিবিআই’র হাতে গ্রেফতার হয় সোহেল। গ্রেফতারের পর সোহেল প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, তার স্ত্রী সেলিনা বেগম ও খলিলুর রহমান এর সহযোগিতায় ভিকটিম শিপনের থেকে ছয় লাখ টাকা ও দেবাশীষ বিশ্বাস নামে আরও এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা এবং অনেকের কাছ থেকে টাকা অন্যান্য কাগজপত্র নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আসামি তার কাছে থাকা কাগজপত্র ও আবেদনপত্র বের করে দেয়।
তাদের বিরুদ্ধে ভাসানটেক থানায় একটি মামলা হয়েছে বলেও জানান বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ।







