করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান লকডাউনে আদালত ও মামলাসংশ্লিষ্ট সবাই ভার্চুয়ালি শতভাগ ঘরে বসেই বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে আপিল বিভাগ এটাই প্রথমবারের মতো ঘরে বসে বিচার প্রক্রিয়ার নজির গড়লো বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পূর্ণাঙ্গরূপে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন। আপিল বিভাগের বিচারপতিরা নিজ নিজ বাসগৃহ হতে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল এবং তার অফিসের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবীরা তাদের নিজ নিজ বাসগৃহ হতে শুনানিতে সংযুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরাও নিজ নিজ বাড়ি থেকে সংযুক্ত হয়েছেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আজ আপিল বিভাগে ২টি ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত জেল পিটিশন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বিজ্ঞ আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে না এসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে নিজ নিজ গৃহে শুনানিতে সংযুক্ত হয়েছেন। আজ সুপ্রিম কোর্টে কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি। তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি- থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনার শুরুর দিকে এর প্রাদুর্ভাবরোধে সরকার ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সেই ছুটিতে দেশের আদালতগুলোর বিচার কার্যক্রমে দেখা যায় অনিশ্চয়তা। কিন্তু বারবার আইনজীবীদের আন্দোলনের মুখে এবং বিচারপ্রার্থীদের কথা ভেবে বহির্বিশ্বের বেশকিছু দেশের মতো ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনায় আইন সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়। যার ধারাবাহিকতায় ‘আদালতে কর্তৃক তথ্য- প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ প্রণয়ন করে সরকার। এতে করে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় প্রদানকালে পক্ষগুলোর ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করবার উদ্দেশ্যে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
এরপর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনার জন্য নির্ধারিত প্রাকটিস রুলসে সংশোধন আনে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। ওই সংশোধনীর পর ২০২০ সালের ১০ মে নিম্ন আদালতের ভার্চুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দেয় কোর্ট প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগেও ভার্চুয়ালি মামলা শুনানি ও নিষ্পত্তির কাজ শুরু করে।









