প্রসিকিউশনের দুর্বল দিক বর্ণনার ক্ষমতা অ্যাটর্নি জেনারেলের: প্রধান বিচারপতি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ জুলাই ২০২১, ২২:০৫আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ২২:০৫

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল) প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষ) বিপক্ষে দুর্বল দিক আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারেন কিনা প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘একমাত্র অ্যাটর্নি জেনারেলকেই সংবিধানে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’ নীলফামারীতে ১৬ বছর আগের একটি ট্রিপল মার্ডারের মামলার শুনানিতে ওই প্রশ্ন ওঠায় মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের ভার্চুয়াল আপিল আদালত এ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাসিনা আক্তার।

এ দিন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ পাবনাবাড়ীতে মা ও দুই মেয়েকে হত্যার ঘটনায় করা মামলাটি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে। এ মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কিছু (তদন্ত ও সাক্ষ্য) গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি তুলে ধরেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর। এ সময় আদালত তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কোন পক্ষে বলা শুরু করলেন? আপনি যে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তা কি ভুলে গেছেন?

জবাবে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের আইনজীবী। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের সামনে সব তথ্য তুলে ধরাই আমার দায়িত্ব। আমার বিবেক তাড়া করছে। দুই পক্ষেই আমাকে বলতে হবে।’

এমন পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মামলায় শুনানির জন্য সময় আবেদন করে আদালতকে বলেন, ‘অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবের বিবেকে বাঁধছে। তাই আমি নিজেই মামলাটিতে শুনানি করতে চাই। এ জন্য সময় দরকার।’

এ অবস্থায় আদালত এ মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলের শুনানির জন্য আগামীকাল বুধবার (১৪ জুলাই) দিন ধার্য করেন এবং মামলার নথি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের সামনে সঠিক তথ্য তুলে ধরাই আমার দায়িত্ব। আমি সেটাই করেছি। মামলার সব দিক তুলে ধরার পরই রাষ্ট্রপক্ষে আসামির শাস্তি বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছি। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল অতিরিক্ত শুনানির জন্য সময় নিয়েছেন। আগামীকাল তিনি শুনানি করবেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোসাইগঞ্জ পাবনাবাড়ী গ্রামে ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল রাত দেড়টায় মনিরুজ্জামান ওরফে জবান আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম (৪০) এবং দুই মেয়ে জবা (১২) ও শোভা (৮) খুন হন। এছাড়া সাড়ে চার বছরের আরেক মেয়ে সুমী গুরুতর আহত হয়। চিকিৎসার পর সুমী সুস্থ হয়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জবান আলী ২৮ এপ্রিল ডোমার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় একই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান, আকবর, নেওয়াজ, মোজাম্মেল, মালেকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। তবে একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পরামর্শে জবান আলীকে ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের সন্দেহ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে জবান আলী নিজেই তার স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করেছে।

পরে পুলিশ জবান আলীর মামলায় আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর পুলিশ বাদী হয়ে জবান আলীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩১ মে একটি হত্যা মামলা করে। এ মামলায় পুলিশ জবান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর এ মামলায় নীলফামারীর আদালত জবান আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। হাইকোর্ট তা বহাল রাখেন। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

 

/বিআই/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী