পুলিশের ব্যক্তিগত কোনও অপরাধের দায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নেবে না বলে জানিয়েছেন কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। পুলিশের ব্যক্তিগত অপরাধের বিষয়ে ডিএমপি জিরো টলারেন্স নীতি পালন করবে। এসব ক্ষেত্রে ডিএমপি কোনও দায় নেবে না। অপরাধীদের বরদাস্ত করা হবে না। বুধবার ডিএমপির সদর দফতরে বিভিন্ন জোনের ডিসি, এডিসি, এসি ও ওসিদের সঙ্গে মাসিক অপরাধবিষয়ক পুলিশের অভ্যন্তরীণ এক সভায় কমিশনার এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।
সভাসূত জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন কমিশনার। তিনি এ সময় উত্তেজিত হয়ে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না।
মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদার বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে হত্যার হুমকি ও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার ছয়দিন পর কমিশনার এই নির্দেশনা দিলেন। রাব্বীকে মারধরের বিষয়ে কমিশনার তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকারের কাছে জানতে চান। এ বিষয়ে ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ডিসি তাকে জানান। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেন কমিশনার।
সভায় ডিএমপিতে পুলিশের সেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কেউ পুলিশের সহযোগিতা চাইলে সঙ্গে-সঙ্গে সহায্য করার নির্দেশনা দিয়ে কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কেউ কোনও বিষয় পুলিশের সাহায্য চাইলে দ্রুত করতে হবে, দেখছি, দেখব এ সব চলবে না।’
বুধবার সকাল ১০ টা থেকে বিকাল আড়াইটা পর্যন্ত এই সভা চলে। সভায় বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার জন্য ডিসি ও ওসিদের নির্দেশনা দিয়েছেন কমিশনার। তিনি বলেন, প্রতিটি থানায় বিট পুলিশিং ব্যবস্থা করতে হবে। মহল্লায় ছোট-ছোট বিট করে এসআইদের দায়িত্ব দিতে হবে। প্রতিটি বিট ওই নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। বিটে থাকা পুলিশ সদস্যরা সব তথ্য সংগ্রহ করবেন। সব কিছু পুলিশের নজরে থাকতে হবে।
সভায় আলোচিত মামলা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দশনা দেওয়া হয়। সময়ক্ষেপণ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডিএমপি কমিশনার।
এবারে সভায় তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার, তেজগাঁও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি), গেন্ডারিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পুরস্কৃত হয়েছেন।
সভার বিষয়ে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সভাই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিশনার। আরও কিছু বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। যে সব জায়গায় আরও উন্নতি করা যায়।
/এমএনএইচ/








