সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত মন্তব্য করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয মঞ্জুরি কমিশনকে নির্দেশনা দিয়েছে। আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে এ ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে পাঠাতে বলা হয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় দরজায় দাঁড়িয়ে কাঁচি হাতে ১৪ জন ছাত্রের চুল কেটে দেন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। এর আগের দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে ওই শিক্ষকের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাগ-বিতণ্ডা হয়। এ সময় ওই শিার্থীদের চুল কেটে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে বলেন তিনি। শিক্ষার্থীরা কেউ চুল না কেটে পরীক্ষার হলে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ১৪ জনের চুলের একটু করে অংশ কেটে দেন তিনি।
শিক্ষকের দ্বারা এই অপমান সহ্য করতে না পেরে পরীক্ষা শেষে নাজমুল হোসেন তুহিন (২৫) নামে এক ছাত্র ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গত মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে দেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারাহান ইয়াসমিন বাতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় চেয়ারম্যানের পদসহ তিনটি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে উদ্বৃত করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সুয়োমুটো অভিযোগ গ্রহণ করে। মানবাধিকার কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ এর ১৭(ক) ধারা মতে, একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনপূর্বক অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রেরণ করতে চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে বলা হলো।









