সৌদি আরবের জেলে থাকা প্রবাসী আবুল বাশারের স্ত্রী রাবেয়া বিভিন্ন সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তার স্বামী আবুল বাশারকে সৌদি আরবে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সে দেশের আদালত। বাশারের অপরাধ, দেশটিতে প্রবেশের সময় তার ব্যাগে মাদকদ্রব্য ইয়াবা পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বরিশালের মো. আবুল বাশারকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আচারের প্যাকেট বলে ইয়াবাভর্তি একটি প্যাকেট নিতে বাধ্য করেছিল নূর মোহাম্মদ, যিনি বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতা কাজের সুপারভাইজার।
জানা গেছে, এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকলেও দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি সহায়তা না পেলে কারাভোগ করতে হবে আবুল বাশারকে। নির্দোষ স্বামীকে কারামুক্ত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সহায়তা চান আবুল বাশারের স্ত্রী রাবেয়া।
সাড়ে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাবেয়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এসেছিলেন। তার স্বামীকে সৌদি কারাগার থেকে মুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চান তিনি। লিখিতভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রীকে।
রাবেয়া বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। বিনা দোষে সাত মাস ধরে মানুষটা জেলে আছেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সে দেশের আদালত তাকে ২০ বছরের জেল দিয়েছে।’ রাবেয়ার আরজি, তাকে (স্বামীকে) একটু বাঁচান। আমার বাচ্চাটারে বাঁচান। মানুষটা কাছে নেই, এই বাচ্চা নিয়ে কই যামু, কী করমু।’
মঙ্গলবার বিকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাবেয়া। এ সময় মন্ত্রী তাকে সহায়তা করার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘এরইমধ্যে দূতাবাস আবুল বাশারের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আমি বিমানবন্দরে কথা বলেছি। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দিতে বলেছি। আপিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সৌদি আরবে নিজেদের টাকায় আইনজীবী নিয়োগ ও মামলায় তদবির করার সামর্থ্য নেই রাবেয়ার। তার অভিযোগ, দূতাবাস থেকে কোনও আইনি সহায়তা পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর (জেদ্দা) আমিনুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রকৃত ঘটনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। রায়ের কপি পাওয়া গেছে। আপিলের প্রস্তুতি চলছে।









