সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মো. কাওছার এবং আইনজীবী মারুফ হোসেন তমাল এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার অধিকার সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অংশ এবং এই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট চলছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে অধিকাংশ নলকূপ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই মাসে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
নোটিশে বলা হয়, এলাকার অনেক মানুষ নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। নারী ও শিশুরা পানি সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করছেন। ধুমঘাট এলাকার বাসিন্দা শেফালি রানী মণ্ডলের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, তিনি প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে এবং নদী সাঁতরে পানি সংগ্রহ করেন। এতে পারিবারিক জীবন, শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পানির অধিকার বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনেও স্বীকৃত মানবাধিকার। প্রতিবছর একই সময়ে সংকট তীব্র হওয়ার বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার পরিচায়ক।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে শ্যামনগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, হাইকোর্টের একটি রায়ে নিরাপদ পানযোগ্য পানি পাওয়ার অধিকারকে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নাগরিকদের পানির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।








