রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাসার বাদশা হত্যার ঘটনায় ঘাতকদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। যেকোনও সময় তারা গ্রেফতার হবে হবে বলেও জানায় তারা। তবে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি। তবে হত্যায় অংশ নেওয়া খুনীদের শনাক্তের পর তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পুলিশের একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে মামলা করার জন্য পরিবার আসবে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা এই খুনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছি।”
থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, খুনের পর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একাধিক টিম অবস্থান করছে। যেকোনও সময় ঘাতকদের আইনের আওতায় আনা হবে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর থানাধীন নবোদয় কাঁচাবাজার এলাকায় ব্রাজিলের খেলা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে সালিশ বৈঠক শেষে আবুল বাসার বাদশা নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় আরও একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নবোদয় কাঁচাবাজারের পাশে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল বাসার বাদশাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবুল বাসার বাদশা ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার গফুর মিয়ার ছেলে। তিনি নবোদয় হাউজিংয়ের বি ব্লকে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় নবোদয় ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
আদাবর থানা বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, ২৯ জুন ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। বুধবার রাতে বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠক বসলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
পুলিশের বরাতে জানা যায়, ওই হামলায় আবুল বাসার বাদশা ও সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, ঘটনার আগে ২৯ জুন নবোদয় এলাকায় ফুটবল খেলা নিয়ে উত্তেজনার সময় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পরদিনও একই বিষয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।









