বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও প্রাপ্তবয়স্ক তিন নারীকে বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শককে (এডিশনাল আইজিপি) আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পরবর্তী বিদেশযাত্রায় তাদের বাধা না দিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিন নারীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুই।
আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, রুলে আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিটে অভিযোগ করা হয়, আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রার ওপর কোনও আদালতের নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনও আইনগত প্রতিবন্ধকতা ছিল না। প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তাদের বিমানবন্দর থেকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অবিবাহিত কি না, বাবা-মা বা অভিভাবক তার সঙ্গে আছেন কি না—এসব বিষয় কোনও নাগরিকের বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।
রিটে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদে থাকা চলাফেরার স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।