চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদনের শুনানি হয়েছে। শুনানিতে তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী দাবি করেছেন, মামলার ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম মহানগর হলেও অন্য আসনের এমপি ছিলেন ফজলে করিম।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ চেয়ে আবেদন করেন গ্রেফতার পাঁচ আসামি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো শুনানি হয়। বাকি শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী। আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাইব্যুনালকে তিনি জানান, যেকোনও অপরাধ সংঘটনের পেছনে তারিখ, সময় ও স্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রসিকিউশন থেকে ফজলে করিমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, এর সপক্ষে কোনও তথ্যপ্রমাণ বা সাক্ষী আনতে পারেননি তারা। এমনকি এ মামলার ঘটনাস্থল হলো চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা। অথচ তিনি অন্য আসনের এমপি। তাই ফজলে করিম ঘটনাস্থলে ছিলেন- প্রসিকিউশন থেকে এমন কোনো কিছু যদি না দেখাতে পারে, তাহলে রিভিউ আবেদনটি বিবেচনায় নেওয়ার প্রার্থনা করেন এই আইনজীবী।
এ সময় সমাজীর উদ্দেশ্যে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মামলাটির চার্জ ফ্রেমিং তথা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়েছে। এখন প্রসিকিউশন সাক্ষী আনবে। এরপর সাক্ষীর জেরা হবে। জেরায় আপনারা এমন কিছু বের করে আনবেন, যেন আমরা কোনও কিছু না করতে পারি। একইসঙ্গে আরও আইনি ব্যাখ্যা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। তবে এ নিয়ে প্রস্তুতির জন্য দুই সপ্তাহ সময় চান আইনজীবী সমাজী। এছাড়া গ্রেফতার বাকি চার আসামির আইনজীবীরাও পুনরায় সময় চান। পরে আসামিপক্ষ ও প্রসিকিউশনকে শোনার জন্য ১৩ অক্টোবর দিন ঠিক করেন আদালত।
ফজলে করিম ছাড়া গ্রেফতার বাকি চার আসামি হলেন— যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু। পাঁচজনই আজ শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
হাছান মাহমুদসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
এর আগে, ৭ এপ্রিল সুনির্দিষ্ট তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ এপ্রিল ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনে প্রসিকিউশন। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম, হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা এবং তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহতের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে।