ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক— আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের অন্যতম দুই অভিনেতা ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের অন্যতম দুই জন অভিনেতা ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্য দিয়েছেন বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। জবানবন্দিতে তিনি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সামনে এনেছেন।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই এই সাক্ষীকে বাংলাদেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফোর-জি ও থ্রি-জি ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী পলক। ১৬ জুলাই আবু সাইদসহ ছয় জন নিহত হওয়ায় বিটিআরসির একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন পলক-জয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ প্রসিকিউটর বলেন, এনটিএমসির তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও বৈঠক করে সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন। এসব বিষয়ে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাক্ষী। একইসঙ্গে পাঁচটি নথি উপস্থাপন করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধ করার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলনে চালানো গণহত্যার খবর যেন দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মহল জানতে না পারে। আর এ খবর আড়াল করতেই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।
মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ নিয়ে তামিম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৮ ও ১৯ জুলাই রাজধানীর উত্তরাসহ এর আশপাশের কয়েকটি থানা এলাকায় নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করেছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যার ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েকজন ছাত্র-জনতা নিহত হন। তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একটি ন্যায্য দাবির আন্দোলনে সরকারের নিপীড়নের সমালোচনা শুরু করে মানুষ। এরপর পদ্ধতিগত অপরাধ হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার। যেন মানুষ এই গণহত্যার খবর জানতে না পারেন। ঠিক পরদিন ১৯ জুলাই যখন আবারও একইভাবে গণহত্যা পরিচালিত হয়, আর এ খবর মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছিলেন, তখন ১৯ জুলাই রাতে সরকারি সিদ্ধান্তে কারফিউ জারি করা হয়। ২০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এভাবে নির্বিচারে সারা দেশে আন্দোলনকারীদেরকে হত্যা ও আহত করা হয়।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, এ মামলায় আজ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ, চাক্ষুষ সাক্ষীসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থাপন করতে পারবো। এ মামলা আমরা প্রমাণ করতে পারবো বলে আমরা মনে করি।