রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি কালি দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টার ঘটনায় করা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় সাকিবুল হাসানকে ও সুজন মিয়াকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর)ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা এতথ্য নিশ্চিত করেন।
শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ। এর জেরে উভয়পক্ষের বাগস বিতণ্ডার মধ্যে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়, তখন এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। এ সময় ওই নারী বলেন, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশি বাধার মুখে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ এর সদস্য সচিব আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক শনিবার এ মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে। রবিবার রিমি ও সুজনের দুই দিন এবং আয়াস ও সাকিবুল হাসানকে তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল।
আবেদনে বলা হয়, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর পলাতক আসামিদের বিষয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা যাচাই বাচাই করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ট তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
আরও বলা হয়, মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীকালে আরও গভীর ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের লক্ষ্যে আসামিদের পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।
আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধী করা হয়। পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
সেগুনবাগিচায় গত ৫ অক্টোবর ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ থেকে শুক্রবার এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের ছবি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সত্যজিৎ রায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তারা। শনিবার ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ এর আয়াসের নেতৃত্বে সেসব প্রতিকৃতি মুছতে যায় একদল লোক।