নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে থাকেন অনেকেই। কিন্তু সেই লাইসেন্সের জোরে যেকোনও স্থানে প্রকাশ্যে পিস্তল বা অন্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন বা তা দিয়ে কাউকে হুমকি যায় কিনা; এ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। কেননা, অস্ত্রের মালিকানা বৈধ হলেও তা বহনের ক্ষেত্রে রয়েছে আলাদা আইনি বাধ্যবাধকতা।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আদনান ইয়াজদানী মনে করেন, প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং অন্যের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কা।
বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা ও বহনের ক্ষেত্রে প্রধান আইনি ভিত্তি হলো অস্ত্র আইন, ১৮৭৮। এ আইনের ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্রসহ চলাফেরা করা যাবে না; একইসঙ্গে লাইসেন্সে অনুমোদিত সীমা ও পদ্ধতি মেনেই অস্ত্র বহন করতে হবে। ১৪ ধারায়ও লাইসেন্সের শর্ত ও অনুমোদিত সীমার বাইরে আগ্নেয়াস্ত্র নিজের দখলে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন রাইজ ফর রাইটস ফাউন্ডেশনের কার্যকরী সদস্য আইনজীবী আদনান ইয়াজদানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অস্ত্রের লাইসেন্স থাকা, আর সেই অস্ত্র যেকোনও পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে বহন ও প্রদর্শনের অধিকার পাওয়া এক বিষয় নয়। লাইসেন্সের ধরন, শর্ত, মেয়াদ এবং প্রযোজ্য সরকারি বিধিনিষেধ বিবেচনায় নিতে হবে।’
অস্ত্র বহনের ওপরে সরকার জনস্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। অস্ত্র আইনের ১৭-ক ধারায় এ ধরনের বিধিনিষেধের বিধান রয়েছে। ধারাটিতে নির্বাচনের সময় অস্ত্র বহনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার ক্ষেত্রে নিরস্ত্র করা এবং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রযোজ্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশেও আইনসম্মত কর্তৃত্ব ছাড়া রাস্তায় বা জনসমাগমস্থলে অস্ত্রসহ চলাফেরার বিষয়ে বিধান রয়েছে। ফলে কোনও ব্যক্তির কাছে বৈধ লাইসেন্স থাকলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার বিশেষ নিষেধাজ্ঞা বা অন্য প্রযোজ্য আইন মানতে হবে।
তবে লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করলে পরিস্থিতি ও অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনটির ২১ ধারায় বলা আছে, অন্য কোনও নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান প্রযোজ্য না হলে, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের জন্য কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি কী ধরনের লাইসেন্সধারী, অস্ত্র বহনের অনুমোদন কী, কোনও বিশেষ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর আছে কিনা এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি কী ছিল; এসব যাচাই করা জরুরি হয়ে ওঠে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অস্ত্র আইন অনুসারে এটি নেওয়ার জন্য ও নেওয়ার পরের সময়ের জন্য কিছু শর্ত থাকে। অস্ত্র নিলে কাউকে ভয় দেখাতে পারবেন না, পাবলিক প্লেসে ব্যবহার করতে পারবেন না ইত্যাদি। শুধু এটি নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা যাবে।’
কেউ যদি এই বিধি ও শর্ত ভঙ্গ করেন এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও কাউকে হুমকি দেওয়ার পর নিজের পক্ষে যুক্তিসংগত কোনও কারণ দেখাতে না পারেন, তবে অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল, তাকে শোকজ করা, জরিমানা করাসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।