ডনযুক্তরাষ্ট্রে সমকামীদের ক্লাবে গুলিতে নিহত ৫০

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৩৪, জুন ১৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৬, জুন ১৩, ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো শহরে সমকামীদের একটি নাইট ক্লাবে এক বন্দুকধারীর গুলিতে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে চালানো এ হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। এ বিষয়টি নিয়ে সোমবার প্রধান শিরোনাম করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।

রাত দুইটার দিকে হামলাকারী ‘পালস’ নামের ক্লাবটিতে ঢুকে পড়েন। তার কাছে ছিল একটি রাইফেলসহ তিনটি অস্ত্র। অস্ত্রের মুখে তিনি সবাইকে জিম্মি করে ফেলেন। ঘণ্টা তিনেক পরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় গুলিতে হামলাকারী নিহত হন।

কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারী ওমর মতিন আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। ২০১৩ সাল থেকে তার ওপর নজর রাখছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বন্দুকধারীর হামলায় এত বেশি মানুষ হতাহতের ঘটনা এর আগে ঘটেনি। এ ঘটনার পর অর‍ল্যান্ডো শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

মার্কিন পুলিশ বলছে, কি কারণে হামলা তা জানা যায়নি। ওমরের বাবা বলেছেন, এ হামলার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। নৈশ ক্লাবের এ হামলাকে ‘স্পষ্টতই সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট। এক সংবাদ সম্মেলনে রিক বলেন, এ হামলা ‘স্পষ্টতই সন্ত্রাসী হামলা।’

শনিবার দিবাগত রাতে অরল্যান্ডোর ওই ক্লাব যখন জমজমাট, তখন ক্লাবে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন ওমর। তার হাতে ছিল একটি রাইফেল আর একটি হ্যান্ডগান। আচমকা গুলির শব্দে অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে নৈশ ক্লাব থেকে বেরিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালান।

অরল্যান্ডো পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাতে এ হামলার তিন ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী ওমর মাতিনকে হত্যা করেন। তার জন্ম ১৯৮৬ সালে। আফগান বংশোদ্ভূত ২৯ বছর বয়সী ওমরের বাড়ি ফ্লোরিডায় পোর্ট সেন্ট লুইসে। কোনো কোনো গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওই নৈশ ক্লাবে তাণ্ডব চালানোর একপর্যায়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন ওমর।

হামলার সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক নেই

ওমর মাতিনের বাবা মীর সিদ্দিক রোববার মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসিকে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন সমকামীদের প্রতি ঘৃণা থেকেই তার ছেলে এ কাজ করেছে। ধর্মের কারণে ওমর এ কাজ করেননি। মীর সিদ্দিক বলেন, ‘এ হামলার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’ তিনি বলেন, তার ছেলে ওমর সম্প্রতি পরিবার নিয়ে মিয়ামি গিয়েছিল। সেখানে সমকামীদের আলিঙ্গন ও চুমু খাওয়া দেখে মানসিকভাবে বেশ আহত হন ওমর। স্ত্রী ও ছোট সন্তানের সামনে এ ঘটনায় ওমর ক্ষুব্ধ হন।

এদিকে এ ঘটনা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিবৃতিকে লজ্জাজনক অভিহিত করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ওবামা হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি প্রচারিত এক বিবৃতিতে অরল্যান্ডোর বন্দুক হামলাকে ‘একটি সন্ত্রাসী ও ঘৃণ্য ঘটনা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা শুধু অরল্যান্ডোতে নয়, আমেরিকার যেকোনো শহরে ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘটতে পারত। অরল্যান্ডোর নাগরিকদের সঙ্গে আমরা আছি। সব সময়ে তাদের পাশে থাকব।’ তিনি আর​ও বলেন, ‘আমেরিকান হিসেবে আমাদের পরিচয় ও মূল্যবোধ এ ধরনের কোনো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় পরিবর্তিত হবে না।’

বন্দুকধারী ওমর মতিনের সহজে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো সময়ে মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে আমাদের স্কুল, উপাসনালয়, সিনেমা হল বা নাইট ক্লাবে হামলা করতে পারে।’ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘কী ধরনের দেশ আমরা চাই, সে সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।’

এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবামাকে বিষণ্ন ও ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। সিবিএস টিভি জানিয়েছে, নিজের শাসনামলে ওবামা এ নিয়ে ২০ বার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে বক্তব্য দিলেন।

প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ওবামার কথায় সুর মিলিয়ে এটিকে একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আসা সব ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে দ্বিগুণ শক্তি ব্যবহার করবেন বলে জানান। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষেও মতামত দেন। তিনি বলেন, ‘কোনো সন্ত্রাসীর হাতে যাতে আগ্নেয়াস্ত্র যেতে না পারে, আমাদের তা নিশ্চিত করতে হবে।’

ডেমোক্রেটিক পার্টির আরেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন। তবে সব তথ্য না জানা পর্যন্ত এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা, না কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাণ্ড, এ বিষয়ে মত দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এই হামলায় একজন মুসলমান জড়িত—এ কথা উল্লেখ করেছেন জোরালোভাবে। মুসলিমদের ব্যাপারে এর আগে সাবধান করার জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া বার্তায় তিনি নিজেই নিজেকে অভিনন্দিত করেন। ‘র‍্যাডিকাল ইসলাম’ কথাটি ব্যবহার না করায় ওবামার বিবৃতিকে লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, শুধু এই কারণেই তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

মুসলমানদের কথা উল্লেখ না করায় ট্রাম্প হিলারিরও সমালোচনা করেন। তিনি হিলারিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানান।

আরকানসাসের সাবেক গভর্নর মাইক হাকাবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় ইসলামি জঙ্গিবাদের উল্লেখ না করায় ওবামার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁকে প্রেসিডেন্ট ওবামা না বলে আমাদের “ভুলোমনা ওবামা” বলে ডাকা উচিত।’

ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মার্কো রুবিও এক বার্তায় উল্লেখ করেন, ইসলাম ধর্ম সমকামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পেছনে যে সেই মনোভাব কাজ করেছে, তা অস্বীকার করা যায় না।

/এমপি/

লাইভ

টপ